শিরোনাম

ঢাকা, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ‘কোথাও’ হস্তান্তর করা হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের দাবিকে নাকচ করে তারা এ কথা বলে।
তেহরান থেকে এএফপি জানায়, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথাও হস্তান্তর করা হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়টি আলোচনায় কখনোই তোলা হয়নি।’
এর আগে শুক্রবার নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘আমাদের মহান বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে তৈরি সব পারমাণবিক ‘ধুলো’ যুক্তরাষ্ট্র পাবে,’ যেখানে তিনি গত বছরের মার্কিন হামলায় মাটির নিচে চাপা পড়া সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কথা উল্লেখ করেন।
তবে বাঘাই বলেন, সাম্প্রতিক আলোচনা মূলত সংঘাত সমাধানকে ঘিরেই হয়েছে, ইউরেনিয়াম উদ্ধারের বিষয়টি নয়।
তিনি বলেন, ‘আগের আলোচনা ছিল পারমাণবিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে, কিন্তু এখনকার আলোচনা যুদ্ধের অবসান নিয়ে। ফলে আলোচনার বিষয়বস্তু আরও বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময় হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ১০ দফা পরিকল্পনা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর আরোপিত এই যুদ্ধে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।’
এছাড়া, ট্রাম্পের সেই বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন বাঘাই, যেখানে তিনি বলেছেন, চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল থাকবে, যদিও তেহরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
বাঘাই বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী খোলা বা বন্ধ করা ইন্টারনেটে নির্ধারিত হয় না; এটি ময়দানে নির্ধারিত হয়। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী জানে, প্রতিপক্ষের যেকোনো পদক্ষেপের জবাব কীভাবে দিতে হয়।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যাকে তারা নৌ-অবরোধ বলছে, সেটির উপযুক্ত জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে। এটি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন এবং ইরান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, ওয়াশিংটন ও তেহরান এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ২০ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত ইরানি অর্থ ছাড় করবে, বিনিময়ে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ছেড়ে দেবে।
বর্তমানে ইরানের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যার একটি অংশ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ (যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি), এবং আরেকটি অংশ ২০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ।
২০২৫ সালের জুনে মার্কিন হামলার আগে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) হিসাব করে জানিয়েছিল, ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল, যা ২০১৫ সালের চুক্তিতে নির্ধারিত ৩.৬৭ শতাংশ সীমার অনেক বেশি।
২০২৫ সালের জুনের পর থেকে এই মজুতের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়েছে, কারণ তেহরান মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে আইএইএ পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।