বাসস
  ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৩২

পেরুতে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে ব্যালটের গুদামে প্রসিকিউটরদের তল্লাশি

ঢাকা, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যবহৃত ব্যালটের একটি গুদামে গতকাল শুক্রবার প্রসিকিউটররা অভিযান চালিয়েছেন। 

এই নির্বাচন বিশৃঙ্খলায় শেষ হয়েছে এবং এতে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও ভোটের সরঞ্জাম হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, ভোটের আয়োজক সংস্থা ন্যাশনাল অফিস অফ ইলেক্টরাল প্রসেসেস (ওএনপিই) বা জাতীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়া কার্যালয়ে এই অভিযান চালানো হয়। নির্বাচনী সামগ্রী ব্যবস্থাপনায় সংস্থাটি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছে কি না, তা যাচাই করতেই এই অভিযান চালানো হয়।

এখনও গত রোববার ও সোমবার অনুষ্ঠিত ভোটের গণনা চলছে। প্রায় সব অবশিষ্ট ভোট গণনা শিট নিয়ে আপত্তি ওঠায়, সেগুলোকে নির্বাচনী আদালতের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। আর এর ফলে গণনা ধীরগতিতে চলছে।

এখনও প্রায় ১০ লাখ ভোটের ফলাফল নির্ধারণ বাকি রয়েছে।

প্রাথমিক ফলাফলে ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট গণনার পর, ডানপন্থী প্রার্থী কেইকো ফুজিমোরি ১৭ শতাংশ ভোট নিয়ে এগিয়ে আছেন।

শীর্ষ দুই প্রার্থী দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং বামপন্থী প্রার্থী রবার্তো সানচেজ ও অতি-রক্ষণশীল রাফায়েল লোপেজ আলিয়াগার মধ্যে একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শুরু হয়ে গেছে।
সানচেজ  ১২ শতাংশ ভোট এবং রাফায়েল ১১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। 

তাদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান প্রায় ১৩ হাজার।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার লিমার একটি ময়লার স্তূপে ১ হাজার ২০০ ভোটের চারটি বাক্স পাওয়া যায়, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে। 
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোটের সরঞ্জাম পৌঁছাতে দেরি হওয়ায়, ভোটের সময়ও বাড়াতে হয়েছিল।

পেরুর সর্বোচ্চ নির্বাচনী বিচার কর্তৃপক্ষ, ন্যাশনাল জুরি অফ ইলেকশনস (জেএনই)’র সভাপতি রবার্তো বার্নিও একটি কংগ্রেসীয় কমিটিকে বলেছেন যে নির্বাচনে ওএনপিই’র ‘ব্যবস্থাপনা ও কার্য সম্পাদনে গুরুতর অনিয়ম’ রয়েছে।

ওএনপিই প্রধান পিয়েরো করভেতো ও আরও তিনজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভোটাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে জেএনই’র কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।

এই নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ৩৫ জন প্রার্থী প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। 

দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অস্থিরতায় থাকা এই আন্দিয়ান দেশে গত আট জন প্রেসিডেন্টের মধ্যে চার জনই সংসদ কর্তৃক অভিশংসিত হয়েছেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় মূলত অপরাধ, চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ড মোকাবিলায় কঠোর ডানপন্থী নীতির প্রস্তাবই প্রাধান্য পেয়েছে।