বাসস
  ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩০

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের, বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, তারা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করছে। এর ফলে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে এবং আর্থিক সহায়তা ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভেনেজুয়েলা সরকারও ২০১৯ সাল থেকে স্থগিত থাকা এই সম্পর্ক পুনরায় স্বীকৃতি দেওয়ার কথা নিশ্চিত করে।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি আইএমএফ-এর এক বিবৃতির বরাতে জানায়, সদস্য দেশগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটাধিকারধারীদের মতামতের ভিত্তিতে এবং দীর্ঘদিনের প্রথা অনুযায়ী সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা ঘোষণা করেছেন, আইএমএফ এখন অন্তর্র্বতী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে কাজ করবে।

ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে রদ্রিগেজ বলেন, ‘সংস্থাটিতে ভেনেজুয়েলার অধিকার সংশ্লিষ্ট সব প্রক্রিয়া আমরা স্বাভাবিক করছি।’

গত কয়েক দিনে আইএমএফ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জরিপ চালিয়ে দেখা হয়, তারা রদ্রিগেজকে ভেনেজুয়েলার বৈধ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় কি না।

আইএমএফের পরপরই বিশ্বব্যাংকও একই সিদ্ধান্ত নেয়। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, আইএমএফের জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে তারা রদ্রিগেজ প্রশাসনের সঙ্গে পুনরায় কাজ শুরু করছে।

এই দুই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির ফলে এখন ভেনেজুয়েলায় অর্থনৈতিক তথ্য সংগ্রহ, কারিগরি সহায়তা প্রদান এবং প্রয়োজন হলে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পথ খুলে গেল।

২০১৯ সালের মার্চে আইএমএফ দেশটির বিরোধী দল, যারা তখন পার্লামেন্ট নিয়ন্ত্রণ করত, তাদের বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দিলে সংস্থাগুলোর সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক ভেঙে পড়ে।

তবে আর্থিক সম্পর্কের বিচ্ছেদ রাজনৈতিক বিরোধের আগেই ঘটে। আইএমএফ সর্বশেষ ২০০৪ সালে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি মূল্যায়ন করে এবং ২০০৭ সালে দেশটি বিশ্বব্যাংকের বকেয়া পরিশোধ করে।

‘যত বেশি ইতিবাচক সংকেত, তত ভালো’

রদ্রিগেজ এ বছরের জানুয়ারির শুরু পর্যন্ত দেশটির উপ-রাষ্ট্রপতি ছিলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের এক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হলে তাকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট করা হয়।

এরপর থেকে ওয়াশিংটন দেশটির অর্থনীতি, বিশেষ করে জ্বালানি খাত বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করতে চাপ বাড়িয়ে আসছে।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষক হেনরি জিমার বলেন, ‘ট্রাম্প প্রায়ই প্রকাশ্যে বলেন, তিনি ডেলসিকে পছন্দ করেন এবং তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। তবে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ব্যক্তিগত সম্পর্কের বাইরে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।’

তিনি বলেন, ‘এটি রদ্রিগেজের বৈধতার ধারণাকে শক্তিশালী করবে।’

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সম্ভাব্য অর্থায়নের পাশাপাশি এই স্বীকৃতি বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়াবে, যারা এতদিন দেশটিতে বিনিয়োগে অনিশ্চয়তায় ছিলেন।

জিমার বলেন, ‘যত বেশি ইতিবাচক সংকেত পাওয়া যায়, ততই বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ প্রবাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও নাজুক।

ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটনে আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠক চলছে, যেখানে হাজারো সরকারি কর্মকর্তা, অর্থনীতিবিদ ও বিনিয়োগকারী অংশ নিচ্ছেন।

পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র রদ্রিগেজ প্রশাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে উৎসাহ দিয়ে আসছে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, আইএমএফ ভেনেজুয়েলাকে ‘স্বাভাবিক অর্থনীতি’ হিসেবে ফিরিয়ে আনার কাজ করছে।

রদ্রিগেজ জানান, সাবেক প্রেসিডেন্ট মাদুরোর শ্যালিকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন উপ-প্রধান লুইস পেরেজ।

বামপন্থী ‘চাভিস্তা’ রাজনৈতিক ধারার অভিজ্ঞ নেতা রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলার প্রথম নারী সরকারপ্রধান।

তবে তার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। গত সপ্তাহে দেশটির বিরোধী দল সংবিধানের দোহাই দিয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে।