বাসস
  ১৯ মে ২০২৬, ১২:৩০

বলিভিয়ায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতা, লা পাজে লুটপাট

ঢাকা, ১৯ মে, ২০২৬ (বাসস) : বলিভিয়ায় মধ্য-ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজের পদত্যাগ দাবিতে চলমান বিক্ষোভ সোমবার আরও সহিংস হয়ে ওঠে। অস্থিরতার ঘটনায় আন্দোলনরত এক নেতার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ দিন বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবন ঘিরে ফেলেন। 

দাঙ্গা পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষ চলে। টিয়ার গ্যাসে ঢেকে যায় লা পাজের রাস্তাঘাট। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। রাজধানীমুখী সড়ক অবরোধের কারণে নিত্যপণ্যের সরবরাহও কমে আসে।

লা পাজ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

হাজার হাজার কৃষক, খনি শ্রমিক, শিক্ষক, বিভিন্ন খাতের শ্রমিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, মজুরি বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণ বন্ধ করা।

আন্দীয় দেশটি গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। এপ্রিল মাসে দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতি পৌঁছেছে ১৪ শতাংশে।

সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে লা পাজে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও রাস্তায় থাকা মানুষজন প্রেসিডেন্ট পাজের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

প্রায় দুই দশকের সমাজতান্ত্রিক শাসনের পর, ছয় মাসেরও কম সময় আগে ক্ষমতায় আসেন রক্ষণশীল এ নেতা।
তিনি দুই দশক পুরোনো জ্বালানি ভর্তুকি বাতিল করেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত তিনি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারেননি।

বলিভিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কাকিয়াভিরি থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৬০ বছর বয়সী কৃষক ইভান আলারকন এএফপিকে বলেন, ‘তিনি অযোগ্য বলেই আমরা তার পদত্যাগ চাই। বলিভিয়া এখন চরম বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’

এর আগে সোমবার বিক্ষোভকারী খনি শ্রমিকদের রাজধানীর প্রধান চত্বরে প্রবেশ ঠেকাতে টিয়ার গ্যাস ছোড়ে দাঙ্গা পুলিশ। ওই এলাকাতেই সরকারি ভবনগুলো অবস্থিত। 

জবাবে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরক ও পাথর নিক্ষেপ করেন।

সরকার প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা একটি কার্যালয়ে লুটপাট চালিয়ে আসবাবপত্র, কম্পিউটার, মনিটর ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে যাচ্ছেন।

কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য দেয়নি। তবে এএফপি অন্তত দুইজন আহত বিক্ষোভকারীকে দেখতে পেয়েছে।

এদিকে কোনো আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারের সংখ্যা প্রকাশ না হলেও টেলিভিশন চ্যানেল ইউনিটেল জানায় শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে।

দেশটির প্রধান কৌঁসুলি সোমবার জানান, বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন সিওবির নেতা মারিও আরগোলোর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধে উসকানির অভিযোগ আনা হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল রজার মারিয়াকা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সিওবির মহাসচিব মারিও আরগোলোর বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানা এখন বলিভিয়ান পুলিশের জেনারেল কমান্ডের হাতে রয়েছে।

সিওবিও প্রেসিডেন্ট পাজের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে যোগ দিয়েছে।

২০০৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা সাবেক সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকেরা সোমবার লা পাজে পৌঁছান। 

তারা রাজধানীর দক্ষিণে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দূরের ওরুরো শহর থেকে সাত দিন ধরে পদযাত্রা করেন।

অর্থমন্ত্রী হোসে গ্যাব্রিয়েল এসপিনোজা রেড উনো টেলিভিশনকে বলেন, এসব বিক্ষোভকারী ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত’ এবং তারা ‘কোকা পাতা চাষি’ মোরালেসকে আবার ক্ষমতায় ফেরানোর পথ তৈরি করতে চাইছে।

শনিবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পুলিশ ও সেনাবাহিনী সাময়িকভাবে লা পাজমুখী কিছু সড়ক খুলে দিতে সক্ষম হয়। অবরোধের কারণে রাজধানীতে খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।