বাসস
  ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:২৯

নেপালে রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তাদের সম্পদ তদন্তে কমিশন গঠন 

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার নিয়ে গত মাসে নির্বাচিত নেপাল সরকার রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ তদন্তে একটি কমিশন গঠন করেছে বলে বৃহস্পতিবার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ব্যাপার থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা ৩৫ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ ২০২৫ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে সরকার পতনের পর অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল জয় পান।

কাঠমান্ডু থেকে এএফপি জানায়, সুপ্রিম কোর্টের একজন সাবেক বিচারপতি পাঁচ সদস্যের এ কমিশনের নেতৃত্বে থাকবেন। কমিশনটি ২০০৬ সাল থেকে যারা উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের সম্পদ পর্যালোচনা করবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস ও তদন্তবিষয়ক উপদেষ্টা দীপা দাহাল জানান, বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সময়সূচি ও অন্যান্য বিষয় নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।’

শাহ দায়িত্ব নেওয়ার পর ঘোষিত সরকারের ১০০ দফা সংস্কার কর্মসূচিতে এ কমিশন গঠনের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এর আগে চলতি মাসেই অর্থপাচার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে নেপাল। বর্তমানে বিদেশে থাকা দেউবা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তাদের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে।

গত মাসে তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও আদালতের নির্দেশে পরে মুক্তি দেওয়া হয়। তারা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কাঠমান্ডুতে শুরু হওয়া যুবনেতৃত্বাধীন আন্দোলনটি একটি স্বল্পমেয়াদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় এবং পরদিনই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের ক্ষোভ এ আন্দোলনকে তীব্র করে তোলে।

বর্তমানে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি ধারণা সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে নেপালের অবস্থান ১০৯তম।