শিরোনাম

ঢাকা, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি দামের চাপ সামাল দিতে পাকিস্তান সরকার প্রতিদিন সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
ইসলামাবাদ থেকে এএফপি জানায়, মঙ্গলবার জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে রাত ১টার মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা ১৫ মিনিট দেশের অধিকাংশ এলাকায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে।
এ সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে, ফলে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ার ঘাটতি পূরণে ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যবহার করতে হয়।
এই লোডশেডিং একযোগে নয়, বরং বিভিন্ন এলাকায় ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে কার্যকর করা হবে। তবে দেশের সবচেয়ে বড় শহর করাচি, যেখানে দুই কোটিরও বেশি মানুষ বাস করে—এবং হায়দরাবাদ শহরকে এ সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানে হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে।
স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার বড় অংশই এশিয়ার দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত।
পাকিস্তান তার জ্বালানি চাহিদার জন্য এ রুটের ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল। সংকটের মধ্যেও কিছু ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি পেলেও বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে এগুলোর খরচ বেড়ে গেছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের উদ্দেশ্য হলো ‘ব্যয়বহুল জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং বিদ্যুতের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ঠেকানো’।
দক্ষিণাঞ্চলে তুলনামূলক কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ থাকায় করাচি ও হায়দরাবাদকে এ সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।