শিরোনাম

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে উঠার প্রত্যাশায় আগামী সপ্তাহে সাধারণ নির্বাচনে যাচ্ছে বুলগেরিয়া। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটি দেশটির অষ্টম নির্বাচন। এই নির্বাচনে জয়ী হতে পারেন সাবেক প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেভের নতুন জোট— জনমত জরিপে এমনই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
সোফিয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান রাদেভ চলতি বছরের শুরুতে নয় বছর দায়িত্ব পালন শেষে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
গত বছরের শেষ দিকে দুর্নীতিবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে রক্ষণশীল সরকার পদত্যাগ করলে এই আগাম নির্বাচনের পথ তৈরি হয়। ৬৫ লাখ মানুষ বসবাসকারী ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোভুক্ত দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
২০২১ সালে দীর্ঘদিনের রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী বয়কো বোরিসভ দুর্নীতিবিরোধী ব্যাপক আন্দোলনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে বুলগেরিয়া অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এরপর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে দরিদ্র সদস্য রাষ্ট্রটিতে কোনো সরকারই এক বছরের বেশি স্থায়ী হয়নি।
ইইউ’র কিছু নীতির কড়া সমালোচক রাদেভ মধ্যপন্থী বাম প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া জোটের নেতা হিসেবে নির্বাচনে লড়তে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়েন। জনমত জরিপ অনুযায়ী, তার পক্ষে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে।
দেশকে ‘অলিগার্কি শাসনব্যবস্থা’ থেকে মুক্ত করতে ২০২৫ সালের শেষের দিকে তিনি দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে প্রকাশ্যে সমর্থন দেন।
রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের আহ্বানও জানিয়েছেন রাদেভ। যদিও ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় হামলা চালিয়ে আসছে রাশিয়া।
ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠানো নিয়ে আগের নীতিরও কড়া সমালোচক রাদেভ। তিনি ফেব্রুয়ারি থেকে দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে কিয়েভের স্বাক্ষরিত ১০ বছরের প্রতিরক্ষা চুক্তিরও সমালোচনা করেছেন। এতে তার বিরোধীরা তাকে রাশিয়ার প্রতি অতিরিক্ত সহনশীল হওয়ার অভিযোগ তুলেন।
গত বছর ইউরোজোনে বুলগেরিয়ার যোগদানের বিষয়ে গণভোটের আহ্বান জানান রাদেভ। তার দাবি ছিল, দেশটি ইউরোপীয় একক মুদ্রায় যোগদানের জন্য প্রস্তুত নয়।
ইইউর গ্রিন ডিল নীতিকেও তিনি ‘নিয়মহীন বিশ্বের জন্য সরল চিন্তা’ বলে সমালোচনা করেছেন।
আলফা রিসার্চ নামে জনমত জরিপ প্রতিষ্ঠানের বোরিয়ানা দিমিত্রোভা এএফপিকে বলেন, প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া ইউরোপ-বিরোধী ও রাশিয়াপন্থী ভোটারদের পাশাপাশি ছোট শহর ও গ্রামে বসবাসরত তরুণদের আকর্ষণ করছে।
প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলো রক্ষণশীল জিইআরবি, যা জনমত জরিপে মাত্র ২০ শতাংশের কিছু বেশি সমর্থন পাচ্ছে।
ব্রাসেলস-সমর্থিত জিইআরবি প্রকাশ্যে ইউক্রেনকে সমর্থন করে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগে বুলগেরিয়ার অংশগ্রহণের পক্ষে।
এদিকে বুলগেরিয়ার পুলিশ ভোট কেনাবেচার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। তারা জানায়, অভিযানে ৫ লাখ ইউরোর বেশি (৫ লাখ ৮৩ হাজার ডলার) নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে ও দুই শতাধিক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভোট কেনার কৌশলের মধ্যে ছিল ‘মুদির দোকান ও সেলুনের বকেয়া পরিশোধ করে দেওয়া’ অথবা দলীয় কার্যালয়ে নগদ অর্থ বিতরণ।
বিশ্লেষক দিমিত্রোভা বলেন, আগের নির্বাচনে কম ভোটার উপস্থিতির পর এবার বেশি ভোট পড়লে রাদেভ লাভবান হতে পারেন।
২৪০ আসনের পার্লামেন্টে তিনি যদি শতাধিক আসন পান, তাহলে ‘স্বল্পসংখ্যক আসন নিয়েও সরকার গঠন’ বা কম সমঝোতায় জোট সরকার গঠন সম্ভব হবে। এতে কিছু সময়ের জন্য স্থিতিশীল সরকার গড়া যেতে পারে বলে মনে করেন দিমিত্রোভা।
নতুন পার্লামেন্টকে দুর্বল বিচার ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক সংকটের কারণে প্রধান প্রসিকিউটরসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে এখনো ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৫ সালের দুর্নীতি ধারণা সূচকে বুলগেরিয়ার অবস্থান ৮৪তম। ইউরোপীয় ইউনিয়নে এটি সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে থাকা দেশ।