বাসস
  ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৫৯

লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশে ২০০-এর বেশি গ্রেফতার

ঢাকা, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : লন্ডন পুলিশ নিষিদ্ধ সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর সমর্থনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল থেকে শনিবার ২ শতাধিক ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে।

রাজধানীর ট্রাফালগার স্কয়ারে সমবেত বিক্ষোভকারীদের করতালি ও উল্লাসের মাঝখান থেকে পুলিশ এই কর্মীদের গ্রেফতার করে। 

লন্ডন থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

বিক্ষোভকারীরা নিষিদ্ধ সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর সমর্থনে প্ল্যাকার্ড বহন করায় তারা গ্রেফতারের মুখে পড়েন।

গত বছরের জুলাইয়ে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সংগঠনটির সদস্য হওয়া বা সমর্থন করা ফৌজদারি অপরাধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড।

এর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে লন্ডন হাইকোর্টে আবেদন করা হলে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে আদালত ‘এতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে’ উল্লেখ করে এই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে রায় দেয়।

সরকার অবশ্য এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি পেয়েছে।

হাইকোর্টের রায়ের পর লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ কিছুদিনের জন্য গ্রেফতার কার্যক্রম স্থগিত রাখে। পরে মার্চের শেষ দিকে আবার তা শুরু করার ঘোষণা দেয়।

বিক্ষোভকারীদের একজন, ২৮ বছর বয়সী ফ্রেয়া, লন্ডনের একটি পরিবেশ বিষয়ক সংগঠনের ব্যবস্থাপক, তিনি বলেন, ‘এভাবে উপস্থিত থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সবারই গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া জরুরি। সরকার আইনি অবস্থান পাল্টাতে পারে, কিন্তু তাতে এখানে থাকা মানুষের নৈতিক অবস্থান বদলায় না।’

লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, ২৭ থেকে ৮২ বছর বয়সী মোট ২১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই সংগঠনটির পক্ষে প্ল্যাকার্ড বহনের অভিযোগে আটক হন। কয়েক শ’ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

স্কটল্যান্ডের এডিনবরার ৭৩ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী ডেনিস ম্যাকডারমট বলেন, তিনি আগেও গ্রেফতার হয়েছেন। আবার অংশ নিতে তার কোনো দ্বিধা নেই।

তিনি বলেন, ‘আমি এসব অসাধারণ মানুষের সমর্থক’—এ সময় তিনি অন্য বিক্ষোভকারীদের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি আরও বলেন, আদালতের প্রক্রিয়া যদি চূড়ান্ত হতো, ‘তাহলে এসবের প্রয়োজন হতো না।’

বিক্ষোভের আয়োজক ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিজ’ জানায়, শনিবারের কর্মসূচিতে প্রায় ৫০০ মানুষ অংশ নেন। তারা ‘গাজায় ইসরাইলের গণহত্যায় যুক্তরাজ্য সরকারের সম্পৃক্ততা ও দেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ওপর ভুল পথে দমন-পীড়নের’ বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ বলার পরও পুলিশ গ্রেফতার করছে। শীর্ষ আইনজীবীরাও সতর্ক করেছেন, এ ধরনের গ্রেফতার অবৈধ হতে পারে।’

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে এমন একটি কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস ও লেবাননের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও রয়েছে। এ সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

একজন বিচারক ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর সমর্থনে অভিযুক্তদের সব বিচার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। ৩০ জুলাই এসব মামলার সার্বিক পর্যালোচনার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২০ সালে গঠিত ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ঘোষিত লক্ষ্য, তাদের বর্তমানে ব্লক করা ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ‘ইসরাইলের গণহত্যামূলক ও বর্ণবাদী শাসনে বৈশ্বিক অংশগ্রহণ বন্ধ করা।’

এটি প্রধানত অস্ত্র কারখানাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, বিশেষ করে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা গোষ্ঠী এলবিট সিস্টেমসের মালিকানাধীন কারখানাগুলোকে।