শিরোনাম

ঢাকা, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দু’দিন পেরিয়েছে। কিন্তু বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত এই জলপথে জাহাজ চলাচল এখনও সীমিত রয়েছে। আশা করা হয়েছিল, যুদ্ধবিরতিতে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
লন্ডন থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পর শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে এই পথ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
উপসাগরে এখনও হাজারো নাবিকসহ কয়েকশ’ জাহাজ আটকা পড়ে আছে।
সীমিত যান চলাচল
সামুদ্রিক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ক্লেপার-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মাত্র ১৬টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। তবে এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার নিয়ে এখনও উদ্বেগ কাটেনি।
যুদ্ধবিরতির পরও জাহাজ পারাপারের সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ কম।
যেসব জাহাজ পারাপার হয়েছে, সেগুলো হয় ইরান থেকে এসেছে, অথবা ইরানে গেছে। নয়তো দেশটির সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক নেই-এমন দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।
ক্লেপার-এর বিশ্লেষক আনা সুবাসিচের মতে, ‘যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলে দিনে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫টি জাহাজ পারাপার হতে পারে’।
ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলাচলকারী ৩২৮টি পণ্যবাহী জাহাজের মধ্যে ২০৮টিই ছিল তেল ও গ্যাস ট্যাংকার। এগুলোর বেশিরভাগই ওমান উপসাগরের দিকে যাচ্ছিল।
আটকে পড়া পণ্যবাহী জাহাজ
শিপিং জার্নাল লয়েডস লিস্টের হিসাব অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে উপসাগরে এখনও প্রায় ৮শ’টি জাহাজ আটকে আছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ৬শ’টি মাঝারি থেকে বড় আকারের পণ্যবাহী জাহাজ।
ক্লেপার-এর তথ্যমতে, গত ৭ এপ্রিল পর্যন্ত আরব-পারস্য উপসাগরে ১৮৭টি ট্যাংকারে মোট ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেল নিয়ে সমুদ্রে ছিল।
সংস্থাটি আরও জানায়, সৌদি আরব থেকে ২৫ হাজার টন সার বোঝাই একটি জাহাজ শুক্রবার প্রণালি অতিক্রম করার কথা ছিল।
বিশ্বের মোট সারের এক-তৃতীয়াংশ সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। কিন্তু জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব পড়ার বিষয়ে একাধিকবার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
পানামার পতাকাবাহী ‘প্রিক্স’ নামের জাহাজটি যুদ্ধবিরতির পর ইরানের বাইরের প্রথম জাহাজ হিসেবে সার নিয়ে প্রণালি অতিক্রম করতে যাচ্ছে।
এছাড়া উপসাগরে আরও ৪০টি সারবাহী জাহাজ প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি ১৪টি এলএনজি ট্যাংকারও অপেক্ষমাণ অবস্থায় আছে।
যুদ্ধ চলাকালে মাত্র একটি খালি এলএনজি ট্যাংকার এবং ছয়টি সারবাহী জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
ইরানের টোল আদায়
প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে এখনও যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ইরান বৃহস্পতিবার জানায়, লারাক দ্বীপসংলগ্ন বিকল্প পথ ব্যবহার করা যেতে পারে। সমুদ্রের মূল পথে মাইন থাকার ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড টেকের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, জাহাজগুলো কেবল ইরানি নৌবাহিনীর সঙ্গে সম্বন্বয় করে প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে।
গত সপ্তাহে ওমানের উপকূলের কাছ দিয়ে তিনটি ওমানি ট্যাংকার পারাপারের পর সাম্প্রতিক জাহাজগুলো ইরান-অনুমোদিত বিকল্প পথ ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি জাহাজ টোল দিয়েছে বলেও জানা গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইরানকে এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায় না করার হুঁশিয়ারি দেন। যদিও এর আগে তেহরানের সঙ্গে যৌথভাবে টোল আদায়ের সম্ভাবনার দিকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।
ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ এ ধরনের টোল আরোপের ধারণার সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
৩০টি জাহাজে হামলা
যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে জাহাজে নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
আইআরজিসি শনিবার থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে তিনটি জাহাজে হামলার দাবি করেছে। এর মধ্যে একটি হামলার খবর আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) নিশ্চিত করেছে।
আইএমও, যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার এবং ভ্যানগার্ড টেকের তথ্য অনুযায়ী, ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১৩টি ট্যাংকারসহ মোট ৩০টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে।