শিরোনাম

ঢাকা, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শুক্রবার বেইজিংয়ে তাইওয়ানের বিরোধী দলের নেতা চেং লি-উনের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে বলেছেন, চীনা ও তাইওয়ানি জনগণ এক হবে- এ ব্যাপারে তার ‘পূর্ণ আস্থা’ রয়েছে।
বেইজিং থেকে এএফপি জানায়, কুওমিনতাং (কেএমটি) দলের চেয়ারপারসন চেং গত এক দশকে চীন সফরকারী দলটির প্রথম নেতা। তবে তার এ সফর তাইওয়ানে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যেখানে সমালোচকরা তাকে বেইজিংপন্থী বলে অভিযুক্ত করছেন।
২০১৬ সালে ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির নেতা সাই ইং-ওয়েন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে বেইজিংয়ের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করার পর চীন তাইওয়ানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে।
শি জিনপিং বৈঠকে বলেন, ‘প্রণালীর দুই পাশের জনগণ একে অপরের কাছাকাছি আসছে, এ প্রবণতা বদলাবে না। এটি ইতিহাসের অনিবার্য অংশ। এ বিষয়ে আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, চীন তাইওয়ানের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে বিশেষ করে, কেএমটির সঙ্গে ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা’ এই অভিন্ন রাজনৈতিক ভিত্তির ওপর সংলাপ জোরদারে আগ্রহী।
চেং লি-উন বলেন, তিনি আশা করেন তাইওয়ান প্রণালী আর ‘সম্ভাব্য সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু’ থাকবে না।
তিনি বলেন, ‘উভয় পক্ষের উচিত রাজনৈতিক মুখোমুখি অবস্থান অতিক্রম করে একটি কাঠামোগত সমাধান খুঁজে বের করা, যাতে যুদ্ধ এড়ানো যায় এবং তাইওয়ান প্রণালী বিশ্বে শান্তিপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তির একটি উদাহরণ হয়ে ওঠে।’
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুমকিও দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপটির আশপাশে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে বেইজিং।
প্রতিদিন প্রায় নিয়মিতভাবে তাইওয়ানের আশপাশে যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে চীন, পাশাপাশি বড় আকারের সামরিক মহড়াও চালাচ্ছে।
এদিকে তাইওয়ানে প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলছে। সরকার যেখানে প্রায় ১.২৫ ট্রিলিয়ন তাইওয়ানি ডলার (৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয়ের প্রস্তাব দিয়েছে, সেখানে কেএমটি নিয়ন্ত্রিত সংসদে তা আটকে রয়েছে।
চেং এ প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেন, ‘তাইওয়ান কোনো এটিএম নয়।’ তিনি বরং কেএমটির প্রস্তাবিত ৩৮০ বিলিয়ন তাইওয়ানি ডলার (১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয়ের পক্ষে মত দেন, যা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কেনার জন্য বরাদ্দ হতে পারে।
চেং-এর এই সফর এমন সময় হলো, যখন এক মাস পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিং সফরে গিয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
চীনের সঙ্গে বিনিময় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেএমটি নেতারা নিয়মিত সফর করলেও, সর্বশেষ ২০১৬ সালে দলটির নেতা হুং হসিউ-চু চীন সফর করেছিলেন।
চেং সফরের অংশ হিসেবে সাংহাই ও নানজিং সফর করেন এবং সেখানে বেইজিং ও তাইপেই উভয় স্থানেই সমানভাবে সম্মানিত বিপ্লবী নেতা সান ইয়াত-সেনের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে শুক্রবার এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘তাইওয়ান প্রণালী ও আশপাশের এলাকায় চীনের সামরিক হুমকি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’