বাসস
  ১৯ মে ২০২৬, ১৩:০৮

ইবোলা ঠেকাতে বিমানবন্দরে নজরদারি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা, ১৯ মে, ২০২৬ (বাসস) : ইবোলার বিস্তার ঠেকাতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে প্রাদুর্ভাব কবলিত অঞ্চল থেকে আসা বিমান যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সাময়িকভাবে ভিসা সেবা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কঙ্গোয় এক মার্কিনি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে। 

এক ব্রিফিংয়ে সিডিসি’র ইবোলা প্রতিক্রিয়া ইউনিটের ইনসিডেন্ট ম্যানেজার সতীশ পিল্লাই সাংবাদিকদের জানান, ডিআরসিতে কর্মরত এক মার্কিনি তার কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্পর্শের কারণে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। 

তিনি বলেন, ‘সপ্তাহের শেষে ওই ব্যক্তির উপসর্গ দেখা দেয় এবং রোববার গভীর রাতে তার পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে।’

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। 

এর আগে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ইবোলা পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। 

ব্রিফিংকালে পিল্লাই আরও জানান, আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য আরও ছয় জনকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ডিআরসিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিল্ড অফিসে প্রায় ২৫ জন কর্মী কাজ করছেন। সেখানে অতিরিক্ত একজন জ্যেষ্ঠ কারিগরি সমন্বয়কারী পাঠানোর অনুরোধও পূরণ করছে সিডিসি।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের জন্য তাৎক্ষণিক ঝুঁকি কম বলে সিডিসি’র মূল্যায়ন। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখব এবং প্রয়োজনে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা সমন্বয় করা হবে।’

সিডিসি জানায়, বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াও, গত ২১ দিনের মধ্যে উগান্ডা, ডিআরসি বা দক্ষিণ সুদান সফর করেছেন— এমন অ-মার্কিন পাসপোর্টধারীদের ওপর প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।

উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা সাময়িকভাবে সব ধরণের ভিসা সেবা স্থগিত করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারীদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, প্রাদুর্ভাব নিয়ে তিনি ‘উদ্বিগ্ন’। তবে এ মুহূর্তে এটি আফ্রিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে বলে আমি মনে করি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা

বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া অত্যন্ত সংক্রামক রক্তক্ষরণজনিত জ্বরের এই ধরণটির বিরুদ্ধে কোনো ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল-রজার কাম্বা রোববার প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে জানান, চলমান প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৯১ জনের মৃত্যুর সন্দেহ করা হচ্ছে।

এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫০টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগের বয়স ২০ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে। তাদের ৬০ শতাংশের বেশি নারী।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র সরকার চলতি বছর আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আগের ইবোলা প্রাদুর্ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএইড) বাজেট কমানোর কারণে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী প্রভাব পড়েছে— এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন।

সিডিসি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, তারা আন্তর্জাতিক অংশীদার ও আক্রান্ত দেশগুলোর স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।

সংস্থাটি জানায়, সোমবার ঘোষিত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার আওতায় আক্রান্ত অঞ্চলে প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সিডিসির কর্মীদের মোতায়েন অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ ও পরীক্ষাগার কার্যক্রমেও সহায়তা দেওয়া হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া কার্যক্রমে’ সহায়তার জন্য ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।

তবে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথ পলিসি অ্যান্ড পলিটিক্সের পরিচালক ম্যাথিউ কাভানাঘ যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপকে ‘হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। 

তিনি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে ‘কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার চেয়ে বেশি নাটকীয় পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দেন।

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘প্রশাসন দাবি করেছিল, তারা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে এবং ডব্লিউএইচও’র সক্ষমতার বিকল্প হিসেবে নিজেদের ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। এই প্রাদুর্ভাব স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছে, সেটি ব্যর্থ কৌশল।’

কাভানাঘ আরও বলেন, আগের ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলোতে ইউএসএইড, সিডিসি ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘এবার প্রাদুর্ভাব শুরুর কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। শত শত সংক্রমণ ও উগান্ডার রাজধানী পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ার পর আমরা বিষয়টি জানতে পারছি।’ 

তার ভাষায়, ট্রাম্প প্রশাসন এখন ‘পরিস্থিতির পেছনে ছুটছে।’