বাসস
  ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৪৪

ইস্টার উপলক্ষে যুদ্ধবিরতির পথে রাশিয়া-ইউক্রেন 

ঢাকা, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : রাশিয়া ও ইউক্রেন অর্থোডক্স ইস্টার উপলক্ষে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি শনিবার বিকেল থেকে শুরু হয়ে রবিবার রাত পর্যন্ত চলবে।

কিয়েভ থেকে এএফপি জানায়, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৃহস্পতিবার রাতে যুদ্ধবিরতির নির্দেশ দেন। এর এক সপ্তাহেরও বেশি আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইস্টার উপলক্ষে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কিছুটা স্থবির হয়ে আছে।

কী বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে?

ক্রেমলিন জানায়, যুদ্ধবিরতি শনিবার বিকেল ৪টা থেকে রোববার দিনের শেষ পর্যন্তমোট ৩২ ঘণ্টা কার্যকর থাকবে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলউসোভ এবং সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভকে এই সময় সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ক্রেমলিন বলেছে, তারা আশা করে ইউক্রেনও একই পদক্ষেপ অনুসরণ করবে।

এর জবাবে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন আগেও ইস্টার উপলক্ষে যুদ্ধবিরতির কথা জানিয়েছে এবং এবারও তা মানতে প্রস্তুত।

আগের যুদ্ধবিরতির অভিজ্ঞতা

গত বছরও অর্থোডক্স ইস্টার উপলক্ষে প্রায় ৩০ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল রাশিয়া। তবে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে শত শতবার তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।

কয়েক দিন পর পুতিন ৯ মে (রাশিয়ার জাতীয় দিবস) উপলক্ষে আরেকটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তবে জেলেনস্কি এটিকে ‘চরম ভণ্ডামি’ বলে আখ্যা দেন।

যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি

২০২২ সালের পর গত বছরে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি অর্জনের পর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি ধীর হয়ে গেছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মার্চ মাসে রুশ বাহিনী মাত্র ২৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে এবং কিছু জায়গায় তারা ভূখণ্ড হারিয়েছে।

বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় ১৯ শতাংশ এলাকা দখলে রেখেছে, যার একটি বড় অংশ ২০২২ সালের আগ্রাসনের শুরুতেই দখল করা হয়।

শান্তি আলোচনা কোথায় দাঁড়িয়ে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ শেষ করতে একাধিক দফা আলোচনা আয়োজন করেছে আবুধাবি ও জেনেভায়।

তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বৈঠকের পর থেকে এই ত্রিপক্ষীয় আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে আছে।

ইউক্রেন বর্তমান ফ্রন্টলাইন অনুযায়ী সংঘাত স্থগিত করার প্রস্তাব দিলেও রাশিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেছে। মস্কো চায় ইউক্রেন ডনেতস্ক অঞ্চলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিক—যা কিয়েভের কাছে অগ্রহণযোগ্য।

এ ছাড়া জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়ে গেছে।

‘স্বল্পস্থায়ী’ হতে পারে

ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি মেনে চলার ইঙ্গিত দিলেও দেশটির জনগণের মধ্যে এ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিগা বলেন, ‘কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে যুদ্ধবিরতি সঠিক কৌশল।’

রুশ বিশ্লেষক কনস্তানতিন কালাচেভ মনে করেন, এই যুদ্ধবিরতি ‘স্বল্পস্থায়ী’ হতে পারে।

এদিকে প্রো-ক্রেমলিন সামরিক ব্লগার ‘রিবার’ বলেছে, এই বিরতির সুযোগে নিহত ও আহতদের সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে, যা ড্রোন হামলার কারণে এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।