শিরোনাম

ঢাকা, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা করছে, যার লক্ষ্য দুই সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দেওয়া। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠেয় এই আলোচনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে।
নিচে ইসলামাবাদ আলোচনার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ইসলামাবাদ থেকে পাঠানো এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী তুলে ধরা হলো:
▪ যুদ্ধের প্রেক্ষাপট
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সমন্বিত হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যা করে এবং দেশটির সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে। পাঁচ সপ্তাহে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়।
এর জবাবে তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যার মাধ্যমে বিশ্বে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। এতে জ্বালানির দাম বেড়ে যায় এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য বিঘ্নিত হয়।
৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, যা ২২ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা।
▪ পাকিস্তানের অপ্রত্যাশিত ভূমিকা
পাকিস্তান সাধারণত নিরাপত্তা সংকট ও অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে আলোচনায় থাকে, কিন্তু এবার দেশটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর পাকিস্তানকে প্রথম স্বীকৃতি দেওয়া দেশ ছিল ইরান। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক রয়েছে।
একই সঙ্গে ইসলামাবাদ ওয়াশিংটন, রিয়াদ ও বেইজিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সম্প্রতি চীন সফর করে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় সমর্থন পেয়েছেন।
এদিকে চীন-এর ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে; ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, বেইজিং ইরানকে আলোচনায় আনতে সহায়তা করেছে।
▪ আলোচনার মূল বিষয়
দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য এখনও গভীর।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবে রয়েছে—ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া।
অন্যদিকে ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনায় রয়েছে, প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, জাহাজ চলাচলে টোল আরোপ, সব সামরিক অভিযান বন্ধ এবং সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
লেবানন ইস্যুও বড় বাধা। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, যা আলোচনায় উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
▪ কারা আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির।
▪ কঠোর নিরাপত্তায় ইসলামাবাদ
আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইসলামাবাদে। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে উচ্চ নিরাপত্তা অঞ্চলের সেরেনা হোটেল খালি করে দেওয়া হয়েছে।
শহরে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, রাস্তায় সেনা ও পুলিশের কড়া নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
আলোচনাগুলো সরাসরি নয়; পাকিস্তানি কর্মকর্তারা দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছেন—যেমনটি আগে ওমানের মধ্যস্থতায় হয়েছিল।