শিরোনাম

ঢাকা, ৯ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : লেবাননের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রেড ক্রস। বুধবার ইসরাইল বড় ধরণের হামলা চালানোর পর এ প্রতিক্রিয়া জানায় সংস্থাটি।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) এক বিবৃতিতে জানায়, কার্যকর কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই ব্যাপক বিস্ফোরণক্ষম অস্ত্র ব্যবহার করে রাজধানী বৈরুতসহ জনবহুল এলাকাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে।
জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
লেবাননে আইসিআরসি’র প্রধান অ্যাগনেস ধুর বলেন, ‘দেশজুড়ে মানুষ যুদ্ধবিরতির আশায় ছিল। কিন্তু প্রাণঘাতী হামলার ঢেউ দেশকে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা নিজেদের ঘরে ফেরার মুহূর্তের কথা ভাবতে শুরু করেছিলেন, তাদের অনেকেই নিখোঁজ প্রিয়জনদের খোঁজে অথবা ক্রমশ নাগালের বাইরে চলে যাওয়া এক নিরাপত্তার সন্ধানে রাস্তাঘাট ও হাসপাতালে ছুটছেন।’
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বুধবার ইসরাইলের নজিরবিহীন হামলায় অন্তত ১৮২ জন নিহত ও ৮৯০ জন আহত হয়েছেন।
আইসিআরসি জানায়, দেশজুড়ে লেবানিজ রেড ক্রস নিহতদের সরিয়ে নেওয়া ও আহতদের হাসপাতালে নিতে ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করেছে। ইতোমধ্যেই চাপে থাকা হাসপাতালগুলোকে হঠাৎ করে বিপুলসংখ্যক আহত রোগীর চাপ সামাল দিতে হচ্ছে।
অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন বলেও জানায় সংস্থাটি।
জেনেভাভিত্তিক আইসিআরসি বলেছে, ‘এই অঞ্চলের যে কোনো সমন্বিত চুক্তিতে লেবাননের বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।’
তারা আরও জানায়, ‘পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর মানুষ এখন জরুরি ভিত্তিতে সহিংসতা থেকে বিরতি চায়।’
গত ২ মার্চ তেহরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলে রকেট হামলা শুরু করলে লেবানন এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এই হামলা চালানো হয় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে।
এদিকে চিকিৎসা সহায়তাকারী সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) জানায়, বৈরুতের রফিক হারিরি সরকারি হাসপাতালে তাদের দল বিপুল সংখ্যক আহত রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছে। এর মধ্যে শিশুও রয়েছে।
লেবাননে এমএসএফ-এর জরুরি সমন্বয়ক ক্রিস্টোফার স্টোকস বলেন, ‘রোগীরা শরীরে স্পিøন্টারের আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ নিয়ে আসছে। একজন রোগী দুই পা হারিয়ে হাসপাতালে এসেছে। পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল হয়ে উঠেছে, কারণ ক্রমেই আরও মানুষ আনা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নির্বিচারে এই হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
স্টোকস আরও বলেন, ‘বেসামরিক মানুষের ওপর ধারাবাহিক হামলা বন্ধ করতে হবে। বারবার জোরপূর্বক মানুষকে স্থানচ্যুত করা একটি যুদ্ধাপরাধ এবং এটি বন্ধ করতে হবে।’