শিরোনাম

ঢাকা, ৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : ইসরাইল জানিয়েছে, শুক্রবার তারা ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের অবকাঠামোর যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তা ধ্বংস করার কাজ এখনও শুরুই করেনি ওয়াশিংটন।
এক মাসের বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হয়। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং কোটি মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে।
উভয় পক্ষের হামলা এখন ক্রমেই অর্থনৈতিক ও শিল্প স্থাপনাগুলোর দিকে লক্ষ্য করছে, যা জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি করেছে এবং যুদ্ধের প্রভাব যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও বিস্তৃত করছে।
জেরুজালেম থেকে এএফপি জানায়, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার ইরান থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং সেগুলো প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তবে জরুরি সেবাকর্মীরা জানিয়েছে, একটি অনিয়ন্ত্রিত ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে ঘরবাড়ি ও গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইসরাইলি সামরিক রেডিও জানায়, তেল আবিবের একটি রেলস্টেশন শার্পনেলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই হামলার মধ্যেই ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘ইরানে যা কিছু অবশিষ্ট আছে তা ধ্বংস করা এখনও শুরু হয়নি। পরবর্তী লক্ষ্য সেতু, তারপর বিদ্যুৎকেন্দ্র।’ এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানের সবচেয়ে উঁচু সেতুটি ধ্বংস করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘অসমাপ্ত সেতুসহ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা ইরানিদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারবে না।’
শান্তি চুক্তির আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী ফরেন এফেয়ার্সে লিখে ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেছেন, তেহরানের উচিত একটি সমঝোতায় পৌঁছানো—যার মাধ্যমে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, ‘ইরানের উচিত তার কৌশলগত সুবিধা ব্যবহার করে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো, যাতে এই সংঘাতের অবসান হয় এবং ভবিষ্যতের সংঘাতও প্রতিরোধ করা যায়।’
জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হুমকি
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে, যার মাধ্যমে শান্তিকালে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে।
ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে ইরানও অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা বাড়াবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোকে ‘আমেরিকানদের বের করে দিতে’ আহ্বান জানান।
শুক্রবার কুয়েতের একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যায়। আবুধাবিতে একটি গ্যাস কমপ্লেক্সেও আগুনের কারণে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় বলে জানানো হয়েছে।
বৈশ্বিক প্রভাব
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত এক মাসে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩,৫০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৩৪৫ জনে, আহত ৪,০৪০ জন।
এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১০ ডলারে পৌঁছায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভাষণে যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
মিশর জ্বালানি খরচ কমাতে দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ দ্রুত বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া নাগরিকদের আগাম জ্বালানি সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছে। জাপান বিমান ভাড়ায় জ্বালানি সারচার্জ বাড়ানোর চিন্তা করছে, আর নিউজিল্যান্ডে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি বেড়েছে।