শিরোনাম

ঢাকা, ৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে পদত্যাগ করতে বলেছেন বলে বৃহস্পতিবার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তার রবাতে জানায়, মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএস-এর প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করে জর্জকে অবিলম্বে অবসর নিতে বলা হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সিবিএস একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হেগসেথ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে সক্ষম এমন নেতৃত্ব চান।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল পরে এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, জর্জ ‘তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর’ ভিত্তিতে পদ থেকে অবসর নিচ্ছেন, তবে কোনো কারণ উল্লেখ করেননি।
প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে জর্জ একাধিকবার ইরাক ও আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আগে সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ অব স্টাফ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন-এর আমলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের সিনিয়র সামরিক সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন।
সিবিএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ অব স্টাফ জেনারেল ক্রিস্টোফার লানেভ ভারপ্রাপ্ত চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। হেগসেথ তাকে ‘যুদ্ধক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সামরিক নেতৃত্বে বড় রদবদল
জর্জ ছাড়াও জেনারেল ডেভিড হডনে এবং মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিন জুনিয়রকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইতোমধ্যে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের ব্যাপক রদবদল দেখা গেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল চার্লস ‘সিকিউ’ ব্রাউনকে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই বরখাস্ত করেন।
এ ছাড়া নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড প্রধান, ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির প্রধান, বিমানবাহিনীর ভাইস চিফ এবং ন্যাটোতে নিয়োজিত এক অ্যাডমিরালসহ আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা অপসারণের শিকার হয়েছেন।
হেগসেথ দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট তার পছন্দের নেতৃত্ব বেছে নিচ্ছেন। তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা সতর্ক করে বলেছেন, এতে ঐতিহ্যগতভাবে নিরপেক্ষ মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘রাজনীতিকরণ’ হতে পারে।
এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী সামরিক বাহিনীতে চার তারকা জেনারেল ও অ্যাডমিরালের সংখ্যা কমপক্ষে ২০ শতাংশ এবং মোট জেনারেল ও ফ্ল্যাগ কর্মকর্তার সংখ্যা ১০ শতাংশ কমানোর নির্দেশও দিয়েছিলেন।