বাসস
  ০১ এপ্রিল ২০২৬, ২১:১৫

ইরান যুদ্ধ ঘিরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প

ঢাকা, ১ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : ইরান যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংঘাত শুরুর পর এটিই তার প্রথম প্রাইম-টাইম ভাষণ।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, হোয়াইট হাউস ভাষণের বিস্তারিত জানায়নি। তবে এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুদ্ধবিরতি চেয়েছে, যদিও তিনি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার শর্ত জুড়ে দেন।

তিনি ট্রুথ সোশ্যালে লিখেন, ‘ইরানের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছেন।’ তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সময় রাত ৯টায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এক মাসের বেশি আগে ইরানে হামলা শুরু করলেও এতদিন পর তার এ ভাষণ দেওয়া রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়তা ও অর্থনৈতিক চাপ

সাম্প্রতিক জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে, আর বিরোধিতা ৫০ শতাংশের ওপরে উঠে গেছে। যুদ্ধ ও এর অর্থনৈতিক প্রভাব, দুটিই জনঅসন্তোষ বাড়াচ্ছে।

জ্বালানির দাম বেড়ে প্রতি গ্যালন ৪ ডলার ছাড়িয়েছে, ভোক্তা আস্থা কমেছে, যা অর্থনীতিতে ট্রাম্পের অবস্থানকে আরও দুর্বল করেছে।

ইরান যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থনও কমে গেছে, যেখানে অধিকাংশই সামরিক অভিযানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

বার্তায় দ্বৈততা

ট্রাম্পের বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ে দ্বৈততা দেখা গেছে। একদিকে তিনি বলেছেন, যুদ্ধ ‘দুই-তিন সপ্তাহে’ শেষ হতে পারে, অন্যদিকে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় আরও হামলার হুমকি দিয়েছেন এবং স্থল অভিযানের সম্ভাবনাও উত্থাপন করেছেন।

তার প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ন্যাটো নিয়ে টানাপোড়েন    

ইউরোপীয় দেশগুলো ইরান যুদ্ধের প্রতি সমর্থন না দেওয়ায় ট্রাম্প ন্যাটো জোট নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো সদস্যপদ ‘পুনর্বিবেচনারও বাইরে’, যা ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।

বাজারে প্রতিক্রিয়া

যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে—এমন আশায় বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে এবং তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী এখনো কার্যত বন্ধ থাকায় ঝুঁকি রয়ে গেছে।

সমালোচকদের মতে, হাজারো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং ইরানের নেতৃত্ব টিকে থাকা- এই সংঘাতের স্পষ্ট পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন তার মিত্রদের একটি অংশ।