বাসস
  ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫৫

সংকটাপন্ন কিউবায় তেল পৌঁছাতে যাচ্ছে রুশ ট্যাংকার

ঢাকা, ৩১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের কার্যত জ্বালানি অবরোধে থাকা কিউবায় মঙ্গলবার জানুয়ারির পর এই প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত তেল পৌঁছে দিতে যাচ্ছে একটি রুশ ট্যাংকার। 

ওয়াশিংটন সাময়িক ছাড় দেওয়ার পর, এই চালান আসছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ‘আনাতোলি কলোদকিন’ নামের ট্যাংকারটি হাভানার পূর্বে মাতানসাস বন্দরের দিকে এগোচ্ছিল। এতে রয়েছে ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল।

কিউবার মাতানসাস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

রাশিয়াকে এই তেল সরবরাহের অনুমতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মস্কোর সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত এড়িয়েছেন। 

একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, জ্বালানি রেশনিং ও গণপরিবহন সংকটে থাকা কিউবাকে সাময়িক স্বস্তি দিয়েছে।

মাতানসাসের ৭৪ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত রোসা পেরেজের বাসায় আবারও বিদ্যুৎ চলে গেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা একে খোলা মনে স্বাগত জানাব। এই তেল আমাদের জন্য যে কতটা প্রয়োজন, তা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না।’

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘দেখি আমাদের অবস্থার কিছুটা হলেও উন্নতি হয় কি না। আমি আর পারছি না।’ 

এ ধরনের আরও চালান আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ট্রাম্প রোববার বলেছেন, কিউবার মানুষের ‘বঁচে থাকার জন্য’ তেল দরকার, তাই রাশিয়া বা অন্যদের তেল পাঠাতে তিনি আপত্তি করেন না।

তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ‘কিউবার মানুষের মানবিক প্রয়োজন মেটাতে, আমরা এই জাহাজটিকে সেখানে যেতে অনুমতি দিয়েছি। প্রতিটি সিদ্ধান্ত ক্ষেত্র ভিত্তিকভাবে নেওয়া হচ্ছে।’
-‘সীমার প্রান্তে ঠেলে দেওয়া’-

জানুয়ারিতে কিউবার প্রধান আঞ্চলিক মিত্র ভেনেজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক নেতা নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী ক্ষমতাচ্যুত করার পর, দেশটি তেল সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। 

এরপর ট্রাম্প কিউবায় তেল পাঠানো দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিউবাকে ‘দখলে নেওয়া’ নিয়েও মন্তব্য করেছেন। 

তবে মার্চে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল নিশ্চিত করেন যে কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আলোচনা করেছেন।

ওয়াশিংটনের অরাজনৈতিক নীতি-গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিউবা স্টাডি গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক রিকার্ডো হেরেরো বলেন, তেল সরবরাহ সীমিত করার উদ্দেশ্য ছিল, হাভানাকে ‘আলোচনার টেবিলে বাস্তব ছাড় দিতে বাধ্য করা।’
তিনি এএফপিকে বলেন, ‘কৌশলটি হচ্ছে ব্যবস্থাকে চূড়ান্ত চাপের মুখে ঠেলে দেওয়া। তবে পূর্ণমাত্রার সামাজিক বা মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করা নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সব কিছুই এই ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই সব কার্ড রয়েছে। কখন থামবে, কখন এগোবে— তা তারাই ঠিক করবে।’

-দুই সপ্তাহের ডিজেল-
২০২৪ সাল থেকে কিউবাজুড়ে সাতবার বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছে, যার মধ্যে মার্চেই দুবার। দেশটিতে জ্বালানির দামও বেড়েছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি কিউবায় জনঅসন্তোষ বাড়িয়েছে এবং এর পাশাপাশি সেখানে কিছু বিরল বিক্ষোভও হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই তেল, কিউবার অর্থনীতিকে কেবল কয়েক সপ্তাহের জন্য সহায়তা দেবে।
অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কিউবার জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ জর্জ পিনন বলেন, আরও জরুরি প্রয়োজন হলো ডিজেল, যা ব্যাকআপ পাওয়ার জেনারেটর বা পরিবহন ব্যবস্থায় অর্থনীতি সচল রাখতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তেল পরিশোধন ও ডিজেল সরবরাহে প্রায় এক মাস সময় লাগবে। এতে প্রায় দুই সপ্তাহের চাহিদা পূরণ সম্ভব।

হেরেরো বলেন, এই চালান কিউবার রুশ মিত্রের আরেকটি ‘সহায়তা’ মাত্র। 

তবে দীর্ঘমেয়াদে মস্কো কিউবার অর্থনীতি ভর্তুকি দিতে চাইবে বলে তিনি মনে করেন না।

তিনি বলেন, ‘এতে দেশটির অর্থনীতির পুনরুদ্ধার হবে না। এটি কেবল মানবিক সহায়তা।’