শিরোনাম

ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : রাশিয়ার হামলার চতুর্থ বার্ষিকী পূর্তির দুদিন আগে রোববার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ একাধিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। কর্মকর্তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তা দেওয়ার পরই এ বিস্ফোরণ ঘটে।
কিয়েভ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
এএফপি সাংবাদিকরা জানান, স্থানীয় সময় ভোর প্রায় ৪টার দিকে বিমান হামলার সাইরেন বাজানোর পরপরই জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তাকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে বলেন, ‘শত্রুপক্ষ ব্যালিস্টিক অস্ত্র দিয়ে রাজধানীতে হামলা চালাচ্ছে। তিনি সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার আহ্বান জানান।
পরে বিমান বাহিনী সারা দেশে সতর্কতা সম্প্রসারিত করে। তারা বৃহত্তর ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির কথা জানায়।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ হামলা শুরুর পর থেকে কিয়েভ নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় মস্কো জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামোতে শীতকালীন হামলা জোরদার করায় রাতের বেলায় আঘাতের ঘটনা বেড়েছে।
রাজধানীতে হামলার সময় তাপমাত্রা নেমে যায় প্রায় মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। শহরজুড়ে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো মোতায়েন করা হয়।
তাকাচেঙ্কো পরে জানান, হামলায় একটি আবাসিক ভবনের ছাদে আগুন লাগে।
এ হামলার পর ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্তেও সতর্কতা জোরদার করা হয়।
পোল্যান্ডের অপারেশনাল কমান্ড জানায়, রোববার ভোরে ইউক্রেন ভূখণ্ডে রুশ ফেডারেশনের দূরপাল্লার বিমান হামলা শনাক্তের পর তারা যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করায়।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে পোল্যান্ড সীমান্তঘেঁষা পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খারা-এ বিস্ফোরণ ঘটে। শহরটিতে সচরাচর প্রাণঘাতী হামলা হয় না।
শনিবার রাত ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে শহরের কেন্দ্রীয় একটি শপিং সড়কে বিস্ফোরণে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। আহত হন আরও ১৫ জন। একটি চুরির অভিযোগে সাড়া দিতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
মেয়র আন্দ্রে সাদোভি বলেন, ‘এটি স্পষ্টতই একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।’ তবে তিনি দায়ীদের বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি।
সামনের সারি থেকে দূরের শহরগুলোতে এ ধরনের হামলার ঘটনা গত দুই বছরে বেড়েছে।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া রাশিয়ার আগ্রাসনের চার বছর পূর্ণ করবে ইউক্রেন। দীর্ঘ এই যুদ্ধে বহু শহর ধ্বংস হয়েছে। লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। উভয় পক্ষেই বিপুল প্রাণহানি ঘটেছে।
মস্কো বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড দখলে রেখেছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও সরবরাহ লাইনে ইউক্রেনের পুনঃপুন আঘাত সত্ত্বেও বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চলে তারা অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার এএফপিকে বলেন, ইউক্রেন ‘নিশ্চিতভাবেই যুদ্ধে হারছে না’ এবং বিজয়ই তাদের লক্ষ্য।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক পাল্টা হামলায় ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রায় ৩০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখল করেছে। তবে এএফপি তাৎক্ষণিকভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি।
নিশ্চিত হলে ২০২৩ সালের পর এটিই হবে কিয়েভের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
জেলেনস্কি বলেন, কিয়েভের অনুরোধে ইলন মাস্ক সামনের সারিতে স্টারলিংক ইন্টারনেট টার্মিনাল বন্ধ করে দেওয়ার পর ব্যাপক সংযোগ বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। তার মতে, এতে ইউক্রেনের অগ্রযাত্রা সম্ভব হয়েছে।
চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই নতুন এই হামলা হলো।
জানুয়ারি থেকে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দূতেরা একাধিকবার বৈঠক করেছেন। তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
ওয়াশিংটনের চাপের মুখে ছাড় দেওয়ার বিষয় বিবেচনার আহ্বান বাড়তে থাকায় জেলেনস্কি আগামী দিনগুলোতে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে পরামর্শের পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ও তুরস্কের আরও গভীর সম্পৃক্ততা চেয়েছেন তিনি।