বাসস
  ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:০৪

কিয়েভে ১৬০০ ভবনে উত্তাপ সরবরাহ বন্ধ, রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনালে হামলা

ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক হামলার পর, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে প্রায় ১ হাজার ৬০০ ভবনে রোববারও উত্তাপ সরবরাহ বন্ধ ছিল। কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। একই সময়ে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনালে হামলার দাবি করেছে।

কিয়েভ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরের প্রায় ১ হাজার ১০০ আবাসিক ভবনসহ আরও অন্যান্য ৫০০ভবনে এখনো তাপ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। কঠোর শীতের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধের কারণে এ সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

কিয়েভ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

সাম্প্রতিক রুশ হামলায় প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেন সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটে পড়েছে। তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যাওয়ায় কয়েক লাখ বাড়ি তাপ ও বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে।

উপপ্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা রাতে জানিয়েছেন, রুশ হামলায় দক্ষিণাঞ্চলীয় ওদেসা ও মধ্য-পূর্বাঞ্চলীয় নিপ্রোপেত্রভস্ক অঞ্চলের রেল অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মস্কো হামলা শুরু করার পর রাশিয়ার অর্থায়নের জন্য সহায়ক তেল ও গ্যাস শিল্পকে লক্ষ্যবস্তু করে ইউক্রেনও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।

রাশিয়ার সীমান্তবর্তী ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলের গভর্নর জানান, রোববার ‘শত্রুপক্ষের হামলায়’ পাঁচটি পৌর এলাকা ও আঞ্চলিক রাজধানীর একটি অংশ তাপ ও বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে।

এদিকে, ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা মস্কো সংযুক্ত ক্রিমিয়ার কাছে রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনালে আঘাত হেনেছে।

এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানায়, ‘রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের একটি তেল টার্মিনাল ও সাময়িকভাবে অধিকৃত ক্রিমিয়া ভূখণ্ডে প্যান্টসির-এস১ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।’

হামলাটি চালানো হয় কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর তামানের অবস্থানস্থল ক্রাসনোদার অঞ্চলের ভলনা গ্রামের কাছে তামাননেফতেগাজ তেল টার্মিনালে। এ বন্দর দিয়ে রাশিয়ার তেল, কয়লা ও শস্য রফতানি হয়।

ইউক্রেন বলেছে, রুশ আগ্রাসনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমাতে নেওয়া পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়েছে।

এর আগে ক্রাসনোদার গভর্নর ভেনিয়ামিন কোন্ড্রাটয়েভ জানান, ইউক্রেনীয় হামলায় ভলনার একটি তেল সংরক্ষণ স্থাপনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ও এতে দুজন আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, কয়েকটি অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে শতাধিক দমকলকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য শহরের তুলনায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের হামলা এড়িয়ে যাওয়া রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় অবকাশযাপন কেন্দ্র সোচির একটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।