শিরোনাম

ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগের সফরের প্রতিবাদে সিডনিতে আয়োজিত সমাবেশে সংঘর্ষের ঘটনায় ‘মর্মাহত’ হওয়ার কথা জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবেনিজ।
তবে তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নেন।
ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগ বন্ডাই বিচে ইহুদি-বিরোধী হামলায় ১৫ জন নিহতের পর সংহতি প্রকাশ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় কড়া নিরাপত্তায় চার দিনের সফর শুরু করেছেন।
এ সময় তিনি সিডনি, মেলবোর্ন ও ক্যানবেরা সফর করবেন ও অস্ট্রেলীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে।
তবে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই সফরের তীব্র বিরোধিতা ও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়।
সিডনি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
তবে সোমবার সন্ধ্যায় অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম শহরের কেন্দ্রস্থলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিষিদ্ধ ঘোষিত এলাকায় মিছিল ঠেকাতে পুলিশ উদ্যোগ নিলে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।
সিডনির কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক এলাকায় বিরল সহিংস সংঘর্ষে পুলিশ বিক্ষোভকারী ও সংবাদ মাধ্যমকর্মীদের ওপর পেপার স্প্রে ব্যবহার করে।
এএফপির কর্মীরাও এর শিকার হন।
ওই ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় রেডিওতে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, সহিংসতার দৃশ্য দেখে তিনি ‘মর্মাহত’।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের দৃশ্যের অবতারণ হওয়া উচিত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশ করতে পারবে। তবে মিছিল করতে চাইলে কোন পথ অনুসরণ করতে হবে, তা পুলিশ স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছিল।’
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স বলেন, পুলিশকে ‘অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে’ কাজ করতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভস্থলের অদূরে হার্জগ ১৪ ডিসেম্বরের নিহতদের স্মরণে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছিলেন। সেখানে হাজারো শোকাহত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মিন্স বলেন, ওই অনুষ্ঠানের কাছাকাছি বিক্ষোভকারীদের যেতে দেওয়া হলে তা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, সমাবেশ থেকে ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। তারা পেপার স্প্রে ব্যবহারের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে।
তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে সিডনির টাউন হলের কাছে নামাজরত মুসলিম পুরুষদের পুলিশকে ধাক্কা দিতে ও ধস্তাধস্তি করতে দেখা গেছে।
গ্রিনস দলের স্থানীয় আইন প্রণেতা অ্যাবিগেইল বয়েড এবিসিকে বলেন, মিছিলে পুলিশি আচরণে তিনি আহত হয়েছেন।
তিনি গলায় নেক ব্রেস পরা একটি সেলফি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানতাম না যে আমাদের রাজ্যে পুলিশ এমন আচরণ করতে পারে। আমি ভীষণভাবে হতবাক।’
হার্জগের সফর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার তিনি বন্ডাই হামলায় নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এটি ছিল ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে হামাসের ইসরাইল হামলার পর ইহুদিদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।
অস্ট্রেলিয়ার অনেক ইহুদি হার্জগের সফরকে স্বাগত জানিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ান জিউরির নির্বাহী কাউন্সিলের সহ-প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স রিভচিন বলেন, ‘এই সফর আহত এক সম্প্রদায়ের মনোবল বাড়াবে।’
তবে সম্প্রদায়ের ভেতরেও ভিন্নমত রয়েছে। প্রগতিশীল জিউইশ কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়া বলেছে, গাজায় ‘চলমান ধ্বংসযজ্ঞে’ তার কথিত ভূমিকার কারণে হার্জগ এখানে কাঙ্ক্ষিত নন।
জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গত বছর জানায়, হামাসের হামলার জন্য সব ফিলিস্তিনি, অর্থাৎ ‘একটি পুরো জাতি’ দায়ী বলে মন্তব্য করায় হার্জগকে গণহত্যায় উসকানির অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা যেতে পারে।
ইসরাইল ওই প্রতিবেদনের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রতিবেদনটিকে ‘বিকৃত ও মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়ে কমিশন এর বিলুপ্তির আহ্বান জানিয়েছে।