বাসস
  ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:০৭
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:১৪

জাপানে অন্তবর্তী নির্বাচনে নারী এমপি কমলো

ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): জাপানের অন্তর্বর্তী নির্বাচনে শক্তিশালী নিম্নকক্ষে নারী আইন প্রণেতার সংখ্যা কমেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, পুরুষপ্রধান রাজনীতিতে আগে থেকেই কম প্রতিনিধিত্ব থাকা নারীদের জন্য এটি আরেকটি ধাক্কা।

টোকিও থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

রোববারের ভোটে ক্ষমতায় নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। চার মাস আগে তিনি জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। তবে নেতৃত্বে আসার পর লিঙ্গসমতা প্রশ্নে তেমন আগ্রহ দেখাননি তিনি।

নতুন সংসদে নারীরা এখন মোট আইন প্রণেতার ১৫ শতাংশ। ৪৬৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে নারী সদস্য ৬৮ জন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭৩। এবারের ভোটে তাকাইচির রক্ষণশীল দল লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ঐতিহাসিক নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা পেয়েছে।

রোববারের নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে নারীর হার ছিল রেকর্ড ২৪ শতাংশ। ২০২৪ সালের তুলনায় তা এক শতাংশ বেশি।

শাসক এলডিপি’র প্রার্থী হিকারু ফুজিতা গর্ভবতী অবস্থায় নির্বাচনে দাঁড়ান। তিনি অভিজ্ঞ এক আইনপ্রণেতাকে হারিয়ে জয়ী হন। নিজের আসনে প্রায় অর্ধেক ভোট পান তিনি।

মধ্যাঞ্চলীয় নাগানো প্রদেশে প্রচারণার সময় ফুজিতা তরুণ ও নারীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির ব্যক্তিগত সমর্থনও পান তিনি।

জাপানে লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা এখনও কঠোর। চাকরি করলেও নারীদের কাছেই ঘর ও পরিবারের দায়িত্ব প্রত্যাশা করা হয়।

অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে পুরুষপ্রধান একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেন মার্গারেট থ্যাচারের অনুরাগী এই কট্টর রক্ষণশীল নেতা।

নির্বাচনী প্রচার শুরুর সময় টোকাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ইউকি সুজি এএফপিকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি এলডিপির ভেতরে নারী প্রার্থী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর কোনো জোরালো আন্দোলন তৈরি করেননি।

নির্বাচিত ৬৮ নারী সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৯ জন এলডিপির। দলটির মোট ৩১৫ আইনপ্রণেতার মধ্যে এটি মাত্র ১২ শতাংশের কিছু বেশি।

রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন তাকাইচি ১৯ শতকের একটি আইন সংশোধনের বিরোধিতা করেন।  আইনটিতে বিবাহিত দম্পতিদের একই পদবি ব্যবহার করতে বলা হয়।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যাপক ইউ উচিয়ামা বলেন, তাকাইচি তাঁর রক্ষণশীল অবস্থানের জন্য এতটাই পরিচিত যে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তির মতো নীতিতে তিনি শক্তি ব্যয় করবেন—এমন সম্ভাবনা কম।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০২৫ সালের গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ প্রতিবেদনে জাপানের অবস্থান ১৪৮ দেশের মধ্যে ১১৮তম।