শিরোনাম

ঢাকা, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : সুদানের উত্তর করদোফান রাজ্যে একটি ত্রাণবহরে ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা এ খবর জানিয়েছে।
শুক্রবার ত্রাণবহরটি এল-ওবেইদের নিকটবর্তী এলাকায় যাচ্ছিল।
সুদানের পোর্ট সুদান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এল-ওবেইদ বর্তমানে সুদানি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এক বছরের বেশি সময় ধরে শহরটিকে ঘেরাও করে রেখেছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
এছাড়াও উভয়পক্ষের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং দেশটি বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়েছে।
সুদানে জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী ডেনিস ব্রাউন জানান, এল-ওবেইদ সফর শেষে তিনি হামলার পরবর্তী দৃশ্য দেখেছেন। হামলার পর ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো জ্বলছিল।
তিনি এ হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবিক কর্মী, সম্পদ ও সহায়তা সামগ্রীগুলোর সুরক্ষার আহ্বান জানান।
সুদানে যুদ্ধাপরাধ নথিভুক্তকারী স্বাধীন সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ জানায়, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ওই ত্রাণবহরটি হামলার শিকার হয় এবং এর জন্য তারা আরএসএফকে দায়ী করে।
স্থানীয় বেসামরিক সংগঠন ‘সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক’ও হামলার জন্য আরএসএফকে দায়ী করেছে।
সংগঠনটি জানায়, এই হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন।
তারা এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে।
সুদান ডক্টরস নেটওয়াক আরও জানায়, এ ধরনের হামলা যুদ্ধকবলিত বেসামরিক জনগণের কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছানোর মানবিক প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সুদানের প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে রয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা থাকা এই মানুষের সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক।
দারফুর অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ আরএসএফ-এর হাতে যাওয়ার পর বর্তমানে করদোফান অঞ্চলেই মূলত সংঘর্ষ কেন্দ্রীভূত।
এল-ওবেইদ শহরটি দারফুর ও রাজধানী খার্তুমের সংযোগকারী প্রধান সড়কের ওপর অবস্থিত।