বাসস
  ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:১৩

‘এ পর্যায়ে’ পারমাণবিক আলোচনায় যোগ দেবে না চীন

ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিলেও চীন জানিয়েছে, ‘এ পর্যায়ে’ তারা পারমাণবিক আলোচনায় যোগ দেবে না।

বেইজিং থেকে এএফপি জানায়, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণবিষয়ক কর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, বৃহস্পতিবার নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায়—যে চুক্তি দুই পরাশক্তির মোতায়েন করা পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা কয়েক দশক ধরে সীমিত রেখেছিল—তা চীনকে নিজস্ব অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণে উৎসাহিত করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ভবিষ্যতে যেকোনো নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে বেইজিংকে নতুন আলোচনায় যুক্ত করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত সফল হয়নি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘চীন সবসময় মনে করে যে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণের অগ্রগতি অবশ্যই বৈশ্বিক কৌশলগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চীনের পারমাণবিক সক্ষমতার পরিসর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন (এবং) এই পর্যায়ে চীন পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নেবে না।’

চুক্তিটি ৫ ফেব্রুয়ারি ক্যালেন্ডারের পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যায়, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তির আওতায় ওয়ারহেড সীমা এক বছরের জন্য বাড়ানোর বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের প্রস্তাবের পর আর কোনো পদক্ষেপ নেননি।

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র মিলেই বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড নিয়ন্ত্রণ করে, তবে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত চুক্তিগুলো ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে তাদের কৌশলগত পারমাণবিক উৎক্ষেপণযানের আনুমানিক সংখ্যা ৫৫০, যা নিউ স্টার্ট চুক্তির আওতায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নির্ধারিত ৮০০টির সীমার তুলনায় এখনও কম।

২০১০ সালে প্রথম স্বাক্ষরিত নিউ স্টার্ট চুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি পক্ষের মোতায়েন করা কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা ১,৫৫০টিতে সীমিত করা হয়েছিল, যা ২০০২ সালে নির্ধারিত আগের সীমার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম।

এ চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষ পরস্পরের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সরেজমিন পরিদর্শনের সুযোগ পেত। তবে কোভিড-১৯ মহামারির সময় এসব পরিদর্শন স্থগিত করা হয় এবং এরপর আর তা পুনরায় শুরু হয়নি।