শিরোনাম

ঢাকা, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইরাকের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রধান শিয়া জোট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের সহায়তা বন্ধের হুমকি সত্ত্বেও তারা নুরি আল-মালিকিকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দেবে।
বাগদাদ থেকে এএফপি এখবর জানায়।
২০০৩ সালে দীর্ঘদিনের শাসক সাদ্দাম হুসেইনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আগ্রাসনের নেতৃত্ব দেওয়ার পর থেকে ইরাকের রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। তবে বাগদাদের আরেক প্রধান মিত্র ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বৈরী সম্পর্ক রয়েছে।
ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ও কৌশলী রাজনীতিক মালিকি ইরাকের একমাত্র দুই মেয়াদি প্রধানমন্ত্রী। তিনি ২০০৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সরকার পরিচালনা করেন।
প্রথমদিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন দখলদার বাহিনীর সমর্থন ভোগ করলেও পরে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়।
গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে বিভিন্ন মাত্রায় সম্পৃক্ত শিয়া গোষ্ঠীগুলোর জোট ‘কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ মালিকিকে ইরাকের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই জোটই দেশটির প্রধান শাসক জোট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
তবে কয়েক দিন পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ধরনের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে মালিকিকে ‘খুবই খারাপ পছন্দ’ বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরাককে আর কোনো সহায়তা দেবে না’।
শনিবার কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক জানায়, তারা ‘নিজেদের মনোনীত প্রার্থীর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে’।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন একটি সম্পূর্ণ ইরাকি সাংবিধানিক বিষয়ৃ যা বিদেশি হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত।’
এতে আরও বলা হয়, তারা ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর ভিত্তি করে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক’ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দশকের পর দশক সংঘাত ও অস্থিরতার পর ইরাক সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরে পেলেও দেশটির রাজনীতি এখনো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার টানাপোড়েনে আচ্ছন্ন।
রোববার দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্ধারিত পার্লামেন্ট অধিবেশনের আগের দিন এই বিবৃতি এলো। তবে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে প্রয়োজনীয় কোরাম পূরণ হবে কি না, তা অনিশ্চিত।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ১৫ দিনের মধ্যে তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে হয়, যিনি সাধারণত সবচেয়ে বড় শিয়া জোটের মনোনীত হন।
রীতি অনুযায়ী, ইরাকে প্রধানমন্ত্রী হন শিয়া, পার্লামেন্ট স্পিকার হন সুন্নি এবং তুলনামূলকভাবে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপতির পদটি কুর্দিদের জন্য নির্ধারিত।
তবে কুর্দিরা এখনো রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। আর অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও বিদেশি চাপ দ্বারা প্রভাবিত ইরাকের অস্থির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো প্রায়ই সাংবিধানিক সময়সীমা ছাড়িয়ে যায়।
কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্কের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে মালিকি বাগদাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তাকে জানানো হয়, ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত ‘চূড়ান্ত’।
একটি সূত্র জানায়, শিয়া নেতারা এ বিষয়ে বিভক্ত—কেউ কেউ মনে করছেন, মালিকি ক্ষমতায় ফিরলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় তার সরে দাঁড়ানো উচিত।
ইরাক দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে লড়াই করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঝুঁকি নিতে পারছে না। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তার অভিযোগে কয়েকটি ইরাকি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।