শিরোনাম

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : গির্জা থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত বুধবার দেশটির বিরোধী দলের প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা কুয়োন সঙ-দংকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বলে ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।
সিউল থেকে এএফপি এখবর জানায়।
বিশেষ কৌঁসুলিরা কুয়োনের বিরুদ্ধে চার বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, ‘ইউনিফিকেশন চার্চ’ নামে পরিচিত এক কাল্টধর্মী ধর্মীয় গোষ্ঠী থেকে তিনি ১০ কোটি উন (প্রায় ৭০ হাজার ডলার) ঘুষ নিয়েছিলেন।
তবে বিচারক ইয়োনহাপের বরাতে জানানো হয়েছে, কুয়োনকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কুয়োন, ইউনের বিতর্কিত সামরিক আইন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় রক্ষণশীল পিপল পাওয়ার পার্টির ফ্লোর লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ইউনকে এপ্রিল মাসে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং সাময়িকভাবে সামরিক আইন জারির পর তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এরপর জুনে আকস্মিক নির্বাচনে ভোটাররা লি জে-মিয়ংকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেন।
কুয়োনের সাজা ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে একই ধর্মীয় গোষ্ঠী থেকে উপহার গ্রহণের দায়ে ইউন-এর স্ত্রী ও সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিয়ন হিকে ২০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
কিমকে ঘিরে তদন্তের সূত্র ধরে ওই গির্জার নেতা হান হাক-জাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গণবিয়ের জন্য পরিচিত এই গোষ্ঠীটি বিশ্বজুড়ে প্রায় এক কোটি অনুসারী রয়েছে বলে দাবি করে এবং একটি বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য পরিচালনা করে।
এর ফলে কেলেঙ্কারিটি আরও বিস্তৃত হয়; বাম ও ডান উভয় শিবিরের একাধিক রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে গির্জাটি থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
গত মাসে গণমাধ্যমে দাবি ওঠার পর সমুদ্রবিষয়ক মন্ত্রী চুন জে-সু পদত্যাগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে গির্জাটি থেকে নগদ ৩ কোটি উন এবং দুটি বিলাসবহুল ঘড়ি গ্রহণ করেছিলেন।
প্রেসিডেন্ট লি অঙ্গীকার করেছেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে অযাচিত প্রভাব বিস্তারকারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।