বাসস
  ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩১

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা হারলে ‘খারাপ কিছু’ ঘটবে: ট্রাম্প

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি হেরে গেলে যুক্তরাষ্ট্রে ‘খুবই খারাপ কিছু’ ঘটবে বলে সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

মিনিয়াপোলিসে অস্থিরতা এবং অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের মধ্যেই মঙ্গলবার আইওয়া’তে এক ঝটিকা নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

ক্লাইভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র আইওয়ার ক্লাইভে আয়োজিত এক জনসভায় ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প বলেন, তার জনপ্রিয়তার রেটিং কম থাকা সত্ত্বেও নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের অবশ্যই সিনেট ও হাউস- উভয় কক্ষেই জয়ী হতে হবে। 

দ্বিতীয় মেয়াদে থাকা এই প্রেসিডেন্ট তার ভাষণে বলেন, ‘আমি আইওয়া’কে ভালোবাসি বলেই এখানে এসেছি। তবে আমাদের আসল লক্ষ্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হওয়া। আমাদের জিততেই হবে।’

তিনি সমর্থকদের সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা যদি মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে যাই, তবে আমাদের এতদিনের সব অর্জন হাতছাড়া হয়ে যাবে। আমরা যেসব সম্পদ ও কর ছাড়ের কথা বলছি, তার অনেক কিছুই হারাব। যার পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।’

ট্রাম্প যখন অর্থনীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন প্রতিবেশী অঙ্গরাজ্য মিনেসোটায় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এক অভিযানে দু’জনের মৃত্যু নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। 

গত সপ্তাহে মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী নার্স অ্যালেক্স প্রেট্টি নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেছিলেন, তিনি পরিস্থিতির কিছুটা ‘উন্নতি’ করবেন। তবে মঙ্গলবারের ভাষণে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

হোয়াইট হাউস জানায়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রতি সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সফর করবেন। 

তবে জনমত জরিপ অনুযায়ী, ক্ষমতা গ্রহণের এক বছর পার হওয়ার পর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। আইওয়ার ভাষণে ট্রাম্প দেশজুড়ে ‘স্বর্ণযুগ’ চলছে বলে দাবি করেন এবং বলেন পণ্যের দাম কমছে। 

তবে তিনি ভোটারদের মন জয় করা কঠিন হতে পারে বলে স্বীকার করেন। তার মতে, প্রেসিডেন্ট যতই ভালো কাজ করুক না কেন, শেষ সময়ে অনেক সময় ভোটাররা বিমুখ হয়ে পড়ে।

জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকার বিষয়টিকে ট্রাম্প ‘অন্যায়’ বলে অভিহিত করেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা’র সাম্প্রতিক জরিপে তার জনপ্রিয়তার হার মাত্র ৪০ শতাংশ। 

আইওয়ার এই সভায় ভাষণ চলাকালে অন্তত দু’বার বিক্ষোভকারীরা বাধা দিলে ট্রাম্প তাদের ‘উন্মাদ’ ও ‘ভাড়াটে বিদ্রোহী’ বলে কটাক্ষ করেন। 

এমনকি সংবিধানের তোয়াক্কা না করে রসিকতার ছলে তিনি চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে দাঁড়ানোর ইঙ্গিতও দেন।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার। মিলার কোনো প্রমাণ ছাড়াই নিহত নার্স প্রেট্টিকে ‘সম্ভাব্য আততায়ী’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক লড়াইয়ে ট্রাম্প বর্তমানে কিছুটা কঠিন অবস্থায় রয়েছেন। যদিও জরিপ বলছে বেশিরভাগ ভোটার তার গণ-বহিষ্কার নীতিকে সমর্থন করেন।

তবে সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা যায়, অভিবাসন কর্মকর্তাদের কঠোর আচরণের বিষয়ে অনেকেই অস্বস্তিতে আছেন। ভাষণের এক পর্যায়ে ট্রাম্প বরাবরের মতোই অভিবাসন নিয়ে কথা বলেন এবং কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরকে লক্ষ্য করে নতুন করে আক্রমণ করেন। ওমর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সোমালি-আমেরিকান নারী সংসদ সদস্য।

এদিকে অর্থনীতির ক্ষেত্রেও ট্রাম্প নতুন ধাক্কা খেয়েছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসে মার্কিন ভোক্তাদের আস্থার সূচক ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।