বাসস
  ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৩

ইইউ কি এ বছর শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করবে?

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পথে এক ধাপ এগিয়েছে ফ্রান্স। এ প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জোটজুড়ে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপের সময় এসেছে কি না—তা নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে।

ব্রাসেলস থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে অস্ট্রেলিয়ার আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এ বিষয়ে চাপ বেড়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞাটি ইতোমধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ব্রাসেলস অস্ট্রেলিয়ার এ উদ্যোগ কতটা সফল হয়, সেদিকেও নিবিড় নজর রাখছে।

ডেনমার্ক, গ্রিস ও স্পেনসহ কয়েকটি সদস্য দেশের সঙ্গে মিলে মাসের পর মাস ধরে ইউরোপীয় পর্যায়ে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছিল ফ্রান্স। তবে শেষে গিয়ে দেশটি নিজ উদ্যোগেই এগোনোর সিদ্ধান্ত নেয়।

এ সপ্তাহে ফ্রান্সের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার একটি বিল পাস করেছে। আইন হিসেবে কার্যকর হতে হলে এখনো সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন।

ইউরোপীয় পর্যায়ে ইতোমধ্যেই ডিজিটাল পরিসর নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন রয়েছে। শিশুদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকসহ একাধিক প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে তদন্তও চলমান।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডের লায়েন ন্যূনতম বয়সসীমা নির্ধারণ করে আরও এগোনোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ২৭ দেশের এই জোট কোন পথে যাবে—তা নির্ধারণের আগে তিনি বিশেষজ্ঞদের মতামত শুনতে চান।

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে ফন ডের লায়েনের প্রতিশ্রুত পরামর্শক প্যানেলটি ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ গঠনের কথা থাকলেও এখন তা চলতি বছরের ‘শুরুর দিকেই’ গঠন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র থমাস রেগনিয়ের বলেন, অনলাইনে শিশুদের আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত রাখতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত—সে বিষয়ে কমিশন সভাপতিকে পরামর্শ দেওয়াই হবে প্যানেলটির উদ্দেশ্য।

মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘আমরা সব পথই খোলা রাখছি। আমরা মতামত নেব, তারপর এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ইতোমধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করছে মালয়েশিয়া, নরওয়ে ও নিউজিল্যান্ডও।

ইইউ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় না থেকে ফ্রান্স একাই এগোনোর পথে হাঁটলেও একা নয়। ডেনমার্কও গত বছর ১৫ বছরের কম বয়সী কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়।

ফ্রান্স ও ডেনমার্কসহ পাঁচটি ইইউ দেশ বর্তমানে একটি বয়স যাচাইকরণ অ্যাপ পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করছে। শিশুদের অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্টে প্রবেশ ঠেকাতে এ অ্যাপটি কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কমিশনের মুখপাত্র রেগনিয়ের জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ অ্যাপটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফ্রান্স বা অন্য কোনো দেশে জাতীয় পর্যায়ে যে বিধিনিষেধ নেওয়া হবে, তা বাস্তবায়নে এই অ্যাপ ব্রাসেলসকে সহায়তা করবে।

যদিও এখনো শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করেনি ইইউ, তবে ‘ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট’ (ডিএসএ) নামের কনটেন্ট আইন নিয়ন্ত্রকদের প্ল্যাটফর্মগুলোর কাঠামো পরিবর্তনে বাধ্য করার ক্ষমতা দেয়—বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষায়।

ডিএসএ আইনে শিশুদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ব্রুগেল থিঙ্ক ট্যাংকের সহযোগী গবেষক পল অলিভার রিখটার বলেন, ‘ডিএসএ ব্যবহার করে ইইউ শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ধরনে প্রভাব ফেলতে পারে।’

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি ও মে মাসে ইইউ যথাক্রমে টিকটক এবং মেটার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। উদ্বেগ ছিল এই প্ল্যাটফর্মগুলো তরুণদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না।

দুই তদন্তেই তথাকথিত ‘র‌্যাবিট হোল’ প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইইউ। অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে সম্পর্কিত কনটেন্ট দেখাতে দেখাতে ব্যবহারকারীকে কখনো কখনো আরও চরম কনটেন্টের দিকে ঠেলে দেওয়াকেই এ প্রভাব বলা হয়।

প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্তগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। তবে এক কর্মকর্তা জানান, চলতি বছরের প্রথমার্ধে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানাতে চান নিয়ন্ত্রকেরা।

রেগনিয়ের বলেন, ‘কাজ জোরেশোরেই চলছে।’

নির্দিষ্ট কোনো তদন্তের কথা উল্লেখ না করে তিনি আরও বলেন, ‘কিছু তদন্তে আমাদের আরও সময় দরকার। তবে আমরা এসব মামলা নিষ্পত্তি করব।’