বাসস
  ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৩

হোদেইদায় জাতিসংঘ মিশন বন্ধের সিদ্ধান্ত

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : ইয়েমেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত বন্দরনগরী হোদেইদায় যুদ্ধবিরতি তদারকির জন্য গঠিত জাতিসংঘ মিশন বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। নিউইয়র্ক থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৩টি দেশ মিশনের মেয়াদ শেষ করার প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। মার্কিন প্রতিনিধিদলের ট্যামি ব্রুস বলেন, হুথিদের বাধার কারণে এই মিশনের আর কোনো কার্যকারিতা নেই। তাই এটি বন্ধ করতে হবে।

এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতিসংঘের মিশনটিকে এখন দুই মাসের মধ্যে কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে হবে।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার হলো ইরানসমর্থিত হুথিদের বিরোধিতাকারী বিভিন্ন গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত। ২০১৪ সালে হুথিরা এই সরকারকে হটিয়ে দিয়ে রাজধানী সানা দখল করে নেয়। বর্তমানে তারা দেশের উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। হোদেইদাও তাদের দখলে।

২০১৫ সাল থেকে হুথিদের সঙ্গে সরকারের যুদ্ধ চলছে। সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। 

এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত কয়েক লাখ ইয়েমেনি নিহত হয়েছে। তৈরি হয়েছে ভয়াবহ মানবিক সংকট।

২০২১ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে হুথিরা জাতিসংঘের কর্মীদের আটক করে আসছে। এখনও কয়েকজন জাতিসংঘ কর্মী তাদের হাতে বন্দি।

ব্রিটেনের পৃষ্ঠপোষকতায় গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, হোদেইদায় জাতিসংঘ মিশন—ইউএনএমএইচএ—আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বন্ধ করতে হবে। ২০১৯ সাল থেকে এই মিশন সেখানে কাজ করছে।

ভোটে রাশিয়া ও চীন বিরত থাকে।

ডেনমার্কের প্রতিনিধি ক্রিস্টিনা মার্কুস লাসেন বলেন, ছয় বছর ধরে ইউএনএমএইচএ অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এটি বড় পরিসরে আবার যুদ্ধ শুরু হওয়া ঠেকাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

তবে তিনি বলেন, সংঘাতের পরিস্থিতি বদলেছে। হুথিদের ইচ্ছামতো আটকের কারণে জাতিসংঘ কর্মীদের জন্য কাজের পরিবেশ এখন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।

আরব উপদ্বীপের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ ইয়েমেনে চলমান যুদ্ধ বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

সংস্থাটি আশঙ্কা করছে, ২০২৬ সালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। খাদ্যসংকটে থাকা ইয়েমেনিদের জন্য খাবার জোগাড় আরও কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহায়তাও কমে আসবে।