শিরোনাম

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে উভয় পক্ষের সামরিক হতাহতের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি থিংক ট্যাঙ্কের সাম্প্রতিক এই প্রতিবেদনে নিহতের পাশাপাশি আহত ও নিখোঁজ সেনাদেরও হিসেবে ধরা হয়েছে।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানায়, এই যুদ্ধে মস্কোর বাহিনী সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। ২০২২ সালে আক্রমণ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার প্রায় ১২ লাখ সেনা হতাহত হয়েছে। এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৩ লাখ ২৫ হাজার।
সিএসআইএস বলেছে, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের কোনো বড় শক্তি কোনো একক যুদ্ধে এমন বিশাল সংখ্যক প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েনি।’
সংস্থাটি আরও জানায়, এত বড় ত্যাগের পরও যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় বাহিনীও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউক্রেনের ৫ থেকে ৬ লাখ সেনা হতাহত হয়েছে। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার সৈন্য।
গবেষণা সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেন মিলিয়ে সম্মিলিত হতাহতের সংখ্যা ১৮ লাখে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের বসন্ত নাগাদ এই সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।’
এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, যুদ্ধে তাদের প্রায় ৪৬ হাজার সেনা নিহত হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা এই সংখ্যাকে প্রকৃত হিসেবের চেয়ে কম বলে মনে করেন। এছাড়া হাজার হাজার সেনা নিখোঁজ বা বন্দি অবস্থায় রয়েছে।
অন্যদিকে, বিবিসি রুশ শাখা এবং মিডিয়াজোনা নামের একটি সংস্থা মৃত্যু সংবাদসহ বিভিন্ন প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে ১ লাখ ৬৩ হাজার রুশ সেনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তবে তাদের মতে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে বেসামরিক নাগরিকদের ওপরও। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর ২০২৫ সালেই ইউক্রেনে সবচেয়ে বেশি বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় জানায়, শুধু ২০২৫ সালেই ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
সংস্থাটির দেওয়া তথ্যমতে, ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর বিয়য়ে তারা নিশ্চিত হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যাটি এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।