বাসস
  ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩২

শিগগিরই ‘পরবর্তী ধাপের’ পারমাণবিক পরিকল্পনা ঘোষণা করবে উত্তর কোরিয়া: কিম

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন শাসক দলের আসন্ন এক বৈঠকে তার দেশের পারমাণবিক শক্তি আরও জোরদার করার পরিকল্পনা প্রকাশ করবেন বলে বুধবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। এর আগে এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর কিম বলেন, এই সক্ষমতা তার শত্রুদের জন্য ‘তীব্র মানসিক যন্ত্রণা’ ডেকে আনবে।

উত্তর কোরিয়ার শাসক ওয়ার্কার্স পার্টির এই গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেস আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এটি পাঁচ বছরে প্রথম দলীয় কংগ্রেস।

এর আগে কিম দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের নির্দেশ দেন।

সিউল থেকে এএফপি জানায়, মঙ্গলবার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তদারকি করার সময় কিম বলেন, দলীয় কংগ্রেসে ‘দেশের পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার পরবর্তী ধাপের পরিকল্পনা স্পষ্ট করা হবে’। রাষ্ট্রীয় কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এ কথা জানায়।

কেসিএনএ জানায়, কিমের সঙ্গে ছিলেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং তার অল্পবয়সী কন্যা। তারা একটি ‘বড় ক্যালিবারের’ একাধিক রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক নিক্ষেপ প্রত্যক্ষ করেন, যেখানে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।

কিম বলেন, ‘এই পরীক্ষার ফলাফল ও তাৎপর্য আমাদের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়াতে চাওয়া শক্তিগুলোর জন্য তীব্র মানসিক যন্ত্রণা ও গুরুতর হুমকির উৎস হয়ে থাকবে।’

রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ‘সহজ ছিল না’- এ কথা স্বীকার করে কিম বলেন, এই পরীক্ষা ‘আমাদের কৌশলগত প্রতিরোধ সক্ষমতার কার্যকারিতা বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে কিম ও তার কন্যাকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। 

বিশ্লেষকদের ধারণা, কন্যাটির নাম জু অ্যায়ে।

উত্তর কোরীয় নেতা জানান, রকেটগুলো ৩৫৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার (২২২ দশমিক ৭ মাইল) দূরে সমুদ্রে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

জাপানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জিজি প্রেস প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জাপান সাগরের দিকে নিক্ষেপ করা হয় এবং এর মধ্যে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর কোরিয়ার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) বাইরে পড়ে।

কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স অ্যানালাইসিসের প্রধান গবেষক লি হো-রিউং এএফপিকে বলেন, আসন্ন দলীয় কংগ্রেসে কিম সম্ভবত ঘোষণা দেবেন যে ‘এখন লক্ষ্য হলো পারমাণবিক পরিচালন সক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া’।

তিনি বলেন, ‘আগের দলীয় কংগ্রেসগুলোতে কিম উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পন্ন হওয়ার ওপর জোর দিয়েছিলেন, আর এবার তিনি ঘোষণা দিতে পারেন যে এই সক্ষমতা এখন শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।’

এই মাসে এটি ছিল পিয়ংইয়ংয়ের দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার নেতা চীন সফরে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে এক দফা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

এই পরীক্ষা এমন এক সময় হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের তৃতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা এলব্রিজ কলবি সিউল সফর করে দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘মডেল মিত্র’ বলে অভিহিত করেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক কোরীয় যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র এখনও দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৮ হাজার ৫০০ সেনা মোতায়েন রেখেছে।

কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের বিশ্লেষক হং মিন এএফপিকে বলেন, ‘পিয়ংইয়ং সম্ভবত ওয়াশিংটনকে সংকেত দিতে চেয়েছে যে তাদের প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার।’

গত মাসে কিম দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ উদ্যোগে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে ‘হুমকি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি ‘প্রতিরোধ করতেই হবে’।

তার প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির লক্ষ্যে কিম জং উনের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছিলেন।