বাসস
  ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:১৭

সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যে টোকিও ছেড়ে চীনে ফিরে যাচ্ছে দুই জনপ্রিয় পান্ডা

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : জাপানের দুই জনপ্রিয় পান্ডা মঙ্গলবার টোকিও ছেড়ে চীনে ফিরে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে গত ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো জাপানে আর কোনো পান্ডা থাকছে না। দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে এমন এক সময়ে এই ঘটনা ঘটছে।

টোকিও থেকে এএফপি জানায়, উএনো চিড়িয়াখানায় জন্ম নেওয়া যমজ পান্ডা লেই লেই ও শিয়াও শিয়াওকে ট্রাকে করে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। চার বছর বয়সী লোমশ এই পান্ডাদ্বয়ের সঙ্গে আবেগী বন্ধন গড়ে তোলা বহু জাপানি ভক্ত এতে হতাশ।

উদ্যান পরিদর্শনে আসা এক নারী রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-কে বলেন, ‘যদিও আমি ওদের দেখতে পারছি না, তবু একই বাতাসে শ্বাস নিতে আর বলতে এসেছি: ভালো থেকো।’

গত মাসে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই পান্ডাগুলোর আকস্মিক প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা আসে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তখন ইঙ্গিত দেন, তাইওয়ানে হামলা হলে টোকিও সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

এই মন্তব্য বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করে।

চীনের তথাকথিত ‘পান্ডা কূটনীতি’র অংশ হিসেবে ধার দেওয়া এই সাদা-কালো প্রাণীগুলো ১৯৭২ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে বেইজিং ও টোকিওর বন্ধুত্বের প্রতীক হয়ে আছে।

উএনো চিড়িয়াখানা পরিচালনায় নিযুক্ত টোকিও মহানগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ধারকাল শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তার এক মাস আগেই পান্ডাগুলোকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

খবরে বলা হয়েছে, জাপান নতুন এক জোড়া পান্ডা ধার নেওয়ার চেষ্টা করছে।

তবে উদারপন্থী আসাহি শিমবুন পত্রিকার সপ্তাহান্তের এক জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের ৭০ শতাংশ মনে করেন, নতুন পান্ডা আনতে সরকারের চীনের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত নয়। আর ২৬ শতাংশ তা চান।

রোববার উএনো চিড়িয়াখানা অনলাইন লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত প্রায় ৪ হাজার ৪০০ ভাগ্যবান দর্শককে পান্ডাগুলোকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেয়।

টিকিট না পাওয়া অনেক ভক্তও পার্কে হাজিরহন পান্ডা-থিমের টি-শার্ট, ব্যাগ ও পুতুল পরে প্রাণীগুলোর প্রতি ভালোবাসা জানান।

এরই মধ্যে চীন তাদের নাগরিকদের জাপানে ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করেছে। দেশটিতে জননিরাপত্তার অবনতি ও চীনা নাগরিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

খবরে আরও বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ (রেয়ার-আর্থ) পণ্যের জাপানে রপ্তানি চীন সীমিত করছে।

তবে টোকিও উইমেনস ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও পূর্ব এশীয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ মাসাকি ইয়েনাগা বলেন, চীন নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন দেশ থেকে পান্ডা ফিরিয়ে নেয়, আর সর্বশেষ এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত নাও হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘চীনা রাজনীতির কথা বললে, পান্ডা পাঠানোর সময়টাই গুরুত্বপূর্ণ।’ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত হলে পান্ডা আবার জাপানে ফিরতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইয়েনাগা জানান, কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে অন্য দেশগুলোও প্রাণী ব্যবহার করে। যেমন, থাইল্যান্ড হাতি, আর অস্ট্রেলিয়া কোয়ালা।

তবে তিনি যোগ করেন, ‘পান্ডা আলাদা। ওদের মানুষ টানার ক্ষমতা খুব বেশি, আর ওরা অর্থও আয় করতে পারে।’