বাসস
  ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১২

আদিবাসী অধিকার দাবিতে অস্ট্রেলিয়া ডে’তে বিক্ষোভ

ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ১৭৮৮ সালে সিডনি হারবারে ব্রিটিশ নৌবহর পৌঁছানোর স্মরণে পালিত জাতীয় ছুটির দিনে সোমবার অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার ও অধিকার দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়া ডে উপলক্ষে সিডনি, মেলবোর্ন, ক্যানবেরা, পার্থসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নামেন বিক্ষোভকারীরা। অনেকের হাতে ছিল ব্যানার, যেখানে লেখা ছিল: ‘এই ভূমি সবসময়ই আদিবাসীদের ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে’।

সিডনিতে ডিসেম্বরের ১৪ তারিখ বন্ডাই বিচে একটি ইহুদি হনুক্কা উৎসবে বন্দুকধারীদের হামলার পর নতুন কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও পুলিশ বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়। ওই হামলায় ১৫ জন নিহত হয়।

অস্ট্রেলিয়ার লাখো মানুষ এ দিনটি বিয়ার পান, বাড়ির পেছনের উঠোনে বারবিকিউ কিংবা সমুদ্রতটে সময় কাটিয়ে উদ্যাপন করেন। তবে চলতি বছর দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী অ্যাডিলেডে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে চলতি মাসে ধারাবাহিক হাঙর হামলার পর- যার একটিতে ১২ বছর বয়সী এক বালকের মৃত্যু হয়- সিডনি ও আশপাশের কয়েকটি সৈকতে হাঙর দেখার খবর পাওয়া গেলে মানুষকে পানি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

অনেক আদিবাসী অধিকারকর্মী ১৭৮৮ সালের ২৬ জানুয়ারির ব্রিটিশ অবতরণকে ‘আগ্রাসনের দিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাদের মতে, ওই ঘটনার মধ্য দিয়েই নিপীড়ন, ভূমি হারানো, গণহত্যা এবং আদিবাসী শিশুদের পরিবার থেকে জোরপূর্বক বিচ্ছিন্ন করার এক দীর্ঘ অধ্যায় শুরু হয়।

অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় চার শতাংশ আদিবাসী ও টরেস স্ট্রেইট আইল্যান্ডার জনগোষ্ঠীর মানুষ। তবে অন্য অস্ট্রেলীয়দের তুলনায় তাদের গড় আয়ু প্রায় আট বছর কম। কারাবন্দিত্ব ও হেফাজতে মৃত্যুর হার বেশি, যুব বেকারত্ব বেশি এবং শিক্ষা পরিস্থিতিও তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে।

‘চলুন অন্য কোনো দিনে উদ্যাপন করি। সবাই এই দেশকে ভালোবাসে এবং উদ্যাপন করতে চায়। কিন্তু শোকের দিনে আমরা উদ্যাপন করি না,’ সিডনিতে এএফপিকে বলেন ৪৪ বছর বয়সী আদিবাসী ব্যক্তি কোডি বার্ডি।

সিডনিতে আরেক আদিবাসী বিক্ষোভকারী, ২৩ বছর বয়সী রিয়াহ দিনাহ লোটোয়ানি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় একটি গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল- এ সত্য মানুষকে স্বীকার করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘জাহাজগুলো সিডনিতে এসেছিল এবং আমাদের অনেক মানুষকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’

এদিকে পৃথকভাবে ‘মার্চ ফর অস্ট্রেলিয়া’ নামে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে কয়েকটি শহরে হাজারো মানুষ অংশ নেন। মেলবোর্নে দুই পক্ষের বিক্ষোভকারীদের আলাদা রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সিডনিতে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারীরা ‘ওদের ফেরত পাঠাও’ স্লোগান দেন। কেউ কেউ ব্যানারে লিখেছিলেন: ‘সন্ত্রাসী আমদানি বন্ধ করো’ কিংবা ‘এক পতাকা, এক দেশ, এক জাতি’।

৬৬ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী রিক কনর্স বলেন, ‘এখন মানুষের থাকার জায়গা নেই, হাসপাতালগুলো ভর্তি, রাস্তাঘাট ভরে গেছে, মানুষ রাস্তায় বসবাস করছে।’

কয়েকজন বিক্ষোভকারী নভেম্বর মাসে গ্রেপ্তার হওয়া হাই-প্রোফাইল নব্য-নাৎসি জোয়েল ডেভিসের মুক্তির দাবিতেও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। ফেডারেল এক আইনপ্রণেতাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তিনি বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন।

নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিডনির রাস্তায় সহিংসতা বা ঘৃণামূলক বক্তব্য কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি সুন্দর, বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বাস করি,  যেখানে সারা বিশ্বের মানুষ রয়েছে। কিন্তু জাতীয় দিবসে বিভাজনমূলক ভাষা, ঘৃণামূলক বক্তব্য বা বর্ণবাদ দিয়ে এই দিনটিকে কলুষিত করার চেষ্টা আমরা বরদাশত করব না।’

প্রিমিয়ার বলেন, ‘যারা এসব নিয়ম ভঙ্গ করবে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।’