শিরোনাম

ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : রাশিয়ার হামলার পর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হিমশীতল আবহাওয়ায় কিয়েভের শত শত ভবনে উষ্ণতার ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় মিত্রদের কাছে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ভিলনিয়াস থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে রাশিয়া নিয়মিত ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। কিয়েভের দাবি, এই শীতকাল সবচেয়ে কঠিন অবস্থার শিকার হয়েছে। তীব্র ঠান্ডার মধ্যে শত শত রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র একযোগে হামলা চালিয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলেছে।
ভিলনিয়াসে পৌঁছে জেলেনস্কি বলেন, ‘শুধু এ সপ্তাহেই রাশিয়া ১ হাজার ৭ শতাধিক আক্রমণাত্মক ড্রোন, ১ হাজার ৩৮০টির বেশি নির্দেশিত আকাশ বোমা ও বিভিন্ন ধরণের ৬৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এ কারণেই প্রতিদিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন। আমাদের আকাশ আরও সুরক্ষিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
রুশ বোমাবর্ষণে কিয়েভে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। এতে ৫ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, ‘২৪ জানুয়ারি কিয়েভ শহরে শত্রুর হামলার পর বর্তমানে ১ হাজার ৬৭৬টি বহুতল আবাসিক ভবনে গরমের ব্যবস্থা নেই।’
হিমাঙ্কের নীচে তাপমাত্রা ও বারবার বিমান হামলার কারণে মেরামতকাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও গরমের সংযোগ পুনরুদ্ধারে কাজ করা কর্মীরা ধীরগতিতে এগোচ্ছেন।
ভিলনিয়াসে জেলেনস্কি ১৮৬৩ সালে জারশাসিত রাশিয়ার বিরুদ্ধে পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ায় সংঘটিত বিদ্রোহের স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের সঙ্গে অতীতের স্বাধীনতা সংগ্রামের তুলনা টানেন।
তিনি বলেন, ‘এই উদযাপনের বার্তা হলো—আমাদের অভিন্ন অতীতের দিকে তাকালে সামনে থাকা সমস্যাগুলো মোকাবিলা করা সহজ হয়। বিশেষ করে সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়ার পুনরুত্থানের এই সময়ে।’ তার কার্যালয় এক্সে এ কথা জানায়।
নাভরোকি তার বক্তব্যে বলেন, ‘হোক তা জারশাসিত রাশিয়া, বলশেভিক রাশিয়া কিংবা ভøাদিমির পুতিনের রাশিয়া— পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া ও ইউক্রেনসহ আমাদের দেশগুলো এখন স্বাধীন হলেও একই সমস্যা রুশ ফেডারেশনের হুমকির মুখোমুখি ।’
জেলেনস্কি তার বক্তৃতায় বলেন, ‘ইউরোপীয় রাজনীতিকদের উচিত এই সত্যটির মূল্য দেওয়া যে তারা আজ স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন, সাম্রাজ্য ও দখলদারদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিতে হচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্র যখন এখনও সক্রিয়, আর ইউরোপজুড়ে যখন স্বৈরশাসকেরা দুর্বল হচ্ছে না—তখন ইউরোপের জন্য স্বস্তি নেওয়ার সময় আসেনি।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইউক্রেনের অন্যতম দৃঢ় সমর্থক পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়া। সম্প্রতি দেশ দুটি যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে কয়েক শত জেনারেটর সরবরাহ করেছে।
ওয়াশিংটনের উদ্যোগে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনা শনিবার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে।
তবে জেলেনস্কি বলেন, আলোচনা ছিল ‘গঠনমূলক’। উভয় পক্ষ আগামী সপ্তাহে আবুধাবিতে আবার বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে।