শিরোনাম

ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : মিনিয়াপোলিসে দ্বিতীয়বারের মতো অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে এক মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বিল ক্লিনটন দেশটির মৌলিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য একটি ‘ওয়েক-আপ কল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তারা যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক মূল্যবোধ রক্ষায় মার্কিন নাগরিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ‘অরাজক পরিস্থিতির’ জন্য ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করেছেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
শনিবার মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন সংস্থার (আইসিই) এজেন্টদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে গুলিতে নিহত হন ৩৭ বছর বয়সী আইসিইউ নার্স অ্যালেক্স প্রেট্টি।
এর আগে একই শহরে তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে আরেক নাগরিক রেনি গুড (৩৭) নিজ গাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, প্রেট্টি ফেডারেল এজেন্টদের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছিলেন এবং তার কাছে একটি পিস্তল ছিল।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং মার্কিন গণমাধ্যম যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেট্টি কোনো অস্ত্র বের করেননি। রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগ করে মাটিতে ফেলে দেওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাকে গুলি করা হয়।
ট্রাম্প এই ঘটনার জন্য মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন প্রশাসনকে দায়ী করে বলেন, ‘ডেমোক্র্যাট পরিচালিত স্যাংচুয়ারি শহর ও রাজ্যগুলো আইসিই’র সঙ্গে সহযোগিতা করছে না।’
এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন যে ডেমোক্র্যাটদের সৃষ্ট ‘অরাজক পরিস্থিতির’ কারণেই এই দুই মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
প্রেট্টির মৃত্যুর পর তার বাবা-মা প্রশাসনের বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে একে ‘ঘৃণ্য মিথ্যাচার’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে রোববার মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা আইসিইর বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।
এ সময় এক বিক্ষোভকারীর প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— ‘বি প্রেট্টি, বি গুড’।
রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে বারাক ও মিশেল ওবামা বলেন, প্রেট্টির মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক মূল্যবোধ যে ‘ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে’, তারই প্রমাণ।
এর কয়েক ঘণ্টা পর বিল ক্লিনটন এক বিবৃতিতে বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার, মারধর ও তাদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং ‘সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা হলো, রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেট্টিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে’।
তিনি এই ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন এবং এর বিরুদ্ধে জনগণকে ‘রুখে দাঁড়ানোর’ আহ্বান জানান।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানান, ঘটনাগুলোর বিস্তারিত ও পরিপূর্ণ তদন্ত প্রয়োজন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিযুক্ত এজেন্টের ভূমিকা সঠিক ছিল কি না— এমন প্রশ্নের সরাসরি কোন উত্তর না দিয়ে, প্রশ্নটিকে এড়িয়ে গেছেন।
রিপাবলিকান দলের একাধিক সিনেটরও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে গুডের মৃত্যুর তদন্তে ট্রাম্প প্রশাসন স্থানীয় তদন্তকারীদের বাদ দিয়েছিল।
মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন রাখেন, ‘এই ফেডারেল এজেন্টদের আমাদের রাজ্য থেকে সরাতে প্রেসিডেন্টের কাছে আর কী করতে হবে?’এদিকে মিনেসোটাভিত্তিক ৬০টিরও বেশি বড় করপোরেশনের ব্যবসায়ী নেতারা এক খোলা চিঠিতে উত্তেজনা প্রশমনের ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।
‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এর আওতায় কয়েক সপ্তাহ ধরে ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত মিনিয়াপোলিসে হাজার হাজার অভিবাসন এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ অভিবাসন অভিযান নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।