বাসস
  ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৯

‘আজ বা কাল’ ইন্টারনেট ফিরবে : ইরানের টেলিকম প্রধান

ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইরানের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, ‘আজ বা কাল’ দেশটিতে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু করা হবে। শনিবার দেশীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ফার্স সংবাদ সংস্থা।

সংস্থাার বরাতে প্যারিস থেকে এএফপি জানায়, শুক্রবার রাতেই ইন্টারনেট পুনঃসংযোগের অনুমোদন দিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এবং এ বিষয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

ফার্সের উদ্ধৃতিতে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বেহজাদ আকবরি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আজ বা কালই এই সমস্যার সমাধান হবে।’

উল্লেখ্য, দেশজুড়ে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার দায়িত্বে রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

ফার্স আরও জানায়, আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ অল্প সময়ের জন্য পুনরায় চালু হলেও ‘প্রায় ৩০ মিনিট পর আবার বন্ধ হয়ে যায়’।

ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকসও স্বল্প সময়ের জন্য সংযোগ ফিরে আসার বিষয়টি নথিভুক্ত করেছে।

সংবাদ সংস্থাটি জানায়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ফার্সকে বলেছেন, ‘কারিগরি জটিলতার কারণে’ পূর্ণাঙ্গভাবে সংযোগ পুনরুদ্ধারে কিছুটা সময় লাগবে।

গত ৮ জানুয়ারি দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হলে ইরান বিশ্বের সঙ্গে তাদের ডিজিটাল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

ইন্টারনেট বন্ধ থাকার সুযোগে ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমন অভিযান চালায়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, এতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। নরওয়ে-ভিত্তিক এনজিও ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ বলেছে, নিহতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তবে ইরান সরকার নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭ বলে জানিয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে তারা ‘শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে—এই শব্দটি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও নিরীহ পথচারীদের বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, যাদের ‘দাঙ্গাবাজ’ বলা হচ্ছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উসকানিতে সহিংসতায় জড়িত হয়।

শনিবার এর আগে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ও সরকারের উপদেষ্টা ইউসুফ পেজেশকিয়ান ইন্টারনেট সংযোগ পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট বন্ধ রাখলে অসন্তোষ সৃষ্টি হবে এবং জনগণ ও সরকারের মধ্যকার দূরত্ব আরও বাড়বে।’

তিনি টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘এর অর্থ হলো—যারা অসন্তুষ্ট ছিলেন না বা নন, তারাও অসন্তুষ্টদের তালিকায় যুক্ত হবেন।’ পরে এই বক্তব্য রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাও প্রচার করে।

ইউসুফ পেজেশকিয়ান বলেন, ইন্টারনেট চালু হলে আবার বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আশঙ্কার চেয়ে এই ঝুঁকিই বেশি।