বাসস
  ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:১৯

আফগানিস্তানে ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য ‘অগ্রহণযোগ্য’: ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আফগানিস্তানে ন্যাটো সৈন্যদের ভূমিকা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

তিনি বলেছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট আফগানিস্তানে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সেনাদের অঙ্গীকার নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছেন, এটি অগ্রহণযোগ্য।’

কোপেনহেগেন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, আফগানিস্তান যুদ্ধে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সেনারা সম্মুখ-সমরে না থেকে পেছনে নিরাপদ দূরত্বে ছিল।  

এ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ফেসবুকে লিখেছেন, আমি পুরোপুরি বুঝতে পারছি— ডেনিশ প্রবীণ সেনা সদস্যরা বলেছেন, এই আঘাতের বেদনা প্রকাশ করার মতো কোনো শব্দ নেই। 

ডেনিশ ভেটেরান্স অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, তারা  এ বিষয়ে ‘কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন’।

সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ডেনমার্ক সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র আমাদের আহ্বান জানিয়েছে, আমরা বিশ্বজুড়ে সংকটপূর্ণ এলাকায় উপস্থিত হয়েছি।

ডেনিশ প্রবীণ সেনা সদস্যরা ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিবাদে ৩১ জানুয়ারি কোপেনহেগেনে একটি নীরব মিছিলের ডাক দিয়েছেন।

ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ডেনমার্ক ন্যাটো দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম, যারা জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।

২০০৩ সালে ডেনমার্কের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন এবং ডেনিশ সংবাদ সংস্থা রিটসাউ অনুযায়ী, বছরের পর বছর প্রায় ১২ হাজার ডেনিশ সেনা ও বেসামরিক নাগরিক আফগানিস্তানে পাঠানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, ডেনমার্ক এবং অন্যান্য দেশের সেনারাও ওই সংঘাতে নিহত হয়েছেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শুক্রবার বলেন, আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্যকে অপমানজনক ও সত্যিকারার্থে ভয়াবহ মনে করি এবং এতে নিহত বা আহতদের প্রিয়জনরা যে আঘাত পেয়েছেন, তাতে আমি বিস্মিত নই।

এদিকে হোয়াইট হাউস স্টারমারের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ট্রাম্পকে সমর্থন করেছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স এএফপি’কে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্পূর্ণ সঠিক— যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর জন্য অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি করেছে, বরং পুরো জোটের সব দেশের সম্মিলিত অবদানের চেয়েও বেশি।