শিরোনাম

ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশাল যুদ্ধজাহাজের বহর বা ‘আর্মাডা’ পারস্য উপসাগরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ইরান পরিস্থিতির ওপর ওয়াশিংটন কড়া নজর রাখছে।
যদিও একই সঙ্গে তিনি তেহরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনার কথা বলে সামরিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি লক্ষ্য করে ইসরাইলের চালানো ১২ দিনের যুদ্ধে সমর্থন ও অংশগ্রহণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকেই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থার পথ খোলা রেখেছেন। তবে গত কয়েক দিনে দুই পক্ষই কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়ার কথা বলায় সরাসরি যুদ্ধের শঙ্কা কিছুটা কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডাব্লিউইএফ) থেকে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আমরা ইরানের দিকে একটি বিশাল নৌ-বহর পাঠাচ্ছি। আমরা ইরানের ওপর নজর রাখছি। আমি অপ্রীতিকর কিছু দেখতে চাই না, তবে আমরা তাদের গতিবিধি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দাভোসে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যাতে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য গত বছর যুক্তরাষ্ট্র তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল।
ইরান অবশ্য বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরান কথা বলতে চায় এবং আমরাও তাদের সাথে আলোচনায় বসব।’
এদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের আঙুল এখন ‘ট্রিগারে’ রয়েছে।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের বিক্ষোভ দানা বাঁধলেও কঠোর দমন-পীড়নের মুখে তা বর্তমানে স্তিমিত হয়ে এসেছে।
মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, এই দমন-পীড়নে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বিক্ষোভ দমাতে দেশটিতে নজিরবিহীনভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।
গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউস জানায়, তেহরান বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করায় ট্রাম্পও ইরানে হামলার হুমকি থেকে পিছিয়ে আসেন। তবে খামেনিকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানো হলে ট্রাম্পের ওপর পাল্টা হামলা হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দেন যে, তেমন কিছু হলে তিনি ইরানকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে দেবেন’।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বৃহস্পতিবার এক ভাষণে অভিযোগ করেন, জুন মাসের ‘১২ দিনের যুদ্ধে’ পরাজিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কাপুরুষোচিত প্রতিশোধ নিতে ইরানের বিক্ষোভকে উসকে দিচ্ছে।