শিরোনাম

ঢাকা, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : তীব্র শীতল তাপমাত্রা নিয়ে একটি শীতকালীন ঝড় চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আঘাত হানতে যাচ্ছে। এতে অন্তত ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ভারী তুষারপাত, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও যাতায়াত ব্যাঘাতের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। নিউইয়র্ক থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
‘উইন্টার স্টর্ম ফার্ন’ নামের এই ঝড়টি টেক্সাস ও গ্রেট প্লেইনস অঞ্চল থেকে শুরু করে মধ্য আটলান্টিক এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো পর্যন্ত বিস্তৃত হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, ঝড়টির দৈর্ঘ্য প্রায় ২ হাজার মাইল বা ৩ হাজার ২১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের অর্ধেকেরও বেশি।
ঝড়টির তীব্রতা বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারে চূড়ান্ত রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে টেক্সাসে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানান, মধ্য আটলান্টিক অঞ্চলে এক ফুটের বেশি তুষারপাত হতে পারে। ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ড সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ আর্কটিক অঞ্চল থেকে আসা হিমেল বাতাস ওই এলাকায় প্রবেশ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া বিষয়ক টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ‘ধ্বংসাত্মক বরফপাত’ এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ মাইল বা ২ হাজার ৪১৪ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত একটি ‘স্নো জোন’-এর পূর্বাভাস দিচ্ছে। সেখানে রেকর্ড পরিমাণ তুষারপাত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে হিমায়িত বৃষ্টি বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও গাছপালার ক্ষতি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক রাজধানী ও সবচেয়ে জনবহুল শহর নিউইয়র্কে সর্বোচ্চ ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে ওয়েদার চ্যানেল।
নিউইয়র্কে চলমান শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা ব্যাপকভাবে নেমে গেছে। ২০ জানুয়ারি সকালে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের সেন্ট্রাল পার্ক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ১৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা মাইনাস ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করে। বাতাসের প্রভাব ধরলে তা নেমে আসে ২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা মাইনাস ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। চলতি শীত মৌসুমে এটি নিউইয়র্কে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, আর্কটিক শীতল বায়ুপ্রবাহের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে ভয়াবহ ঠান্ডা ছড়িয়ে পড়বে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকে নর্দার্ন প্লেইনস অঞ্চল থেকে শুরু করে মধ্য-মিসিসিপি উপত্যকা, ওহাইও উপত্যকা এবং রোববারের মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে হিমাঙ্কের নিচেও এক অঙ্কের তাপমাত্রা বিস্তৃত হবে।
এই আর্কটিক শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে থাকবে দমকা হাওয়া। এতে বিপজ্জনক ‘উইন্ড চিল’ তৈরি হবে। নর্দার্ন প্লেইনস অঞ্চলে সর্বনিম্ন অনুভূত তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা মাইনাস ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যেতে পারে।
সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, অত্যন্ত শীতল বায়ুস্তর এবং এর দক্ষিণে থাকা একটি ফ্রন্টাল জোনের মিলিত প্রভাবে শুক্রবার থেকে সপ্তাহের শেষে সেন্ট্রাল-সাউদার্ন প্লেইনস অঞ্চল থেকে শুরু করে পূর্ব উপকূল পর্যন্ত একটি বড় ধরনের শীতকালীন ঝড় সৃষ্টি হতে পারে।
ঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাবিত কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে ভয়াবহ আবহাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
টেক্সাসে গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট মঙ্গলবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। সড়কে চাপ কমাতে তিনি রাজ্যের ন্যাশনাল গার্ড ও পরিবহন বিভাগের সম্পদসহ জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সক্রিয় করেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো সতর্ক করেছে যে, তুষারপাত, বৃষ্টি ও বরফকণার মিশ্রণে যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।
মিশিগানের ডেট্রয়েটের বাইরের বিস্তীর্ণ এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা মনরো কাউন্টি রোড কমিশন সতর্ক করে জানায়, ‘লবণের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।’
কমিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড লিচ সিবিএস নিউজকে বলেন, ‘এ বছর আমরা গত চারটি ডিসেম্বর মিলিয়ে যত লবণ ব্যবহার করেছি, তার চেয়েও বেশি ব্যবহার করেছি।’
এর আগের বছরগুলোয় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গ্রামীণ এলাকাগুলো তুষার অপসারণে হিমশিম খেতে হয়েছে। অনেক জায়গা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।