শিরোনাম

ঢাকা, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ফিলিপাইনের এক তরুণ সাংবাদিককে সন্ত্রাসে অর্থায়নের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। মানবাধিকার সংগঠন ও জাতিসংঘের এক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার মামলাটিকে ‘ন্যায়বিচারের প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
কমিউনিটি সাংবাদিক ও রেডিও ব্রডকাস্টার ফ্রেঞ্চি কাম্পিও (২৬) ও তার সাবেক রুমমেট মারিয়েল ডোমেকিলকে টাকলোবান আঞ্চলিক আদালতের বিচারক জর্জিনা উয় পেরেজ ১২ থেকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
রায় ঘোষণার সময় তারা কেঁদে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন।
তবে অস্ত্র রাখার একটি কম গুরুতর অভিযোগে দুজনই খালাস পান।
আদালতের বাইরে কাম্পিওর আইনজীবী নরবের্তো রোবেল বলেন, ‘এই রায়ের পরও আইনি প্রতিকার রয়েছে। আমরা আপিল করবো এবং এর পাশাপাশি জামিনের আবেদনও বিচারাধীন রয়েছে।’
মানবাধিকার সংগঠন ক্লুনি ফাউন্ডেশন ফর জাস্টিসসহ বিভিন্ন সংগঠন মামলাটি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। সংগঠনটি দীর্ঘদিন তাকে আটক রাখাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বারবার বিচার পিছিয়ে যাওয়া ও ধীরগতির সমালোচনা করেছিল।
জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার আইরিন খান আগে বলেছিলেন, কাম্পিওর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তার সাংবাদিকতার কাজের প্রতিশোধ হিসেবে আনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাম্পিও ও ডোমেকিলকে অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনার এক বছরের বেশি সময় পর, তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে অর্থায়নের অভিযোগ যোগ করা হয়। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৪০ বছরের সাজা হতে পারে।
কাম্পিও ও তার সমর্থকরা দাবি করে আসছেন যে তিনি ‘রেড-ট্যাগিং’-এর শিকার।
‘রেড ট্যাগিং’ হচ্ছে সরকার সমালোচকদের দীর্ঘদিনের কমিউনিস্ট বিদ্রোহের সঙ্গে যুক্ত করে তাদের কণ্ঠরোধ করা।
কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-এর এশিয়া-প্যাসিফিক পরিচালক বেহ লিহ ই বলেন, ‘এই অযৌক্তিক রায় দেখিয়ে দিল যে প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি ফাঁপা কথা।’
তিনি আরও জানান, ফিলিপাইনে এই প্রথম কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে অর্থায়নের অভিযোগে রায় হলো।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার আলেকসান্দ্রা বিয়েলাকোভস্কা বলেন, রায়টি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি ‘স্পষ্ট অবজ্ঞা’ প্রকাশ করে।
রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের বাইরে এএফপির সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানায়।
গত সেপ্টেম্বর মাসে ২৫০ জনের বেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যম সংগঠন প্রেসিডেন্ট মার্কোসের কাছে কাম্পিওকে মুক্তির আহ্বান জানিয়ে অভিযোগগুলোকে ‘মনগড়া’ বলে উল্লেখ করে।
রায়ের আগে কাম্পিওর মা লালা এএফপিকে বলেন, তিনি প্রতি মাসে একবার মেয়েকে কারাগারে দেখতে যান এবং খাবার ও ওষুধ নিয়ে যান।
রায় ঘোষণার সময় তিনি তার দুই ছেলের সঙ্গে আদালতের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।