বাসস
  ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:২৮

ইরানে বিক্ষোভে নিহত ৩, ১১৭ : সরকার, প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি : মানবাধিকার কর্মী

ঢাকা, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইরানের কর্তৃপক্ষ বুধবার দাবি করেছে যে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী বিক্ষোভে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছে। তবে মানবাধিকার কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, দমন-পীড়নের মাত্রার কারণে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা সরকারের এ দাবির চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।

অর্থনৈতিক দাবি-দাওয়া থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুতই ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতাসীন ধর্মীয় নেতৃত্ববিরোধী গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। 

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

জানুয়ারির শুরুতে কয়েকদিন ধরে ব্যাপক প্রতিবাদ ও ধর্মঘট চললেও, ইন্টারনেট বন্ধসহ কঠোর দমন-পীড়নের মুখে বর্তমানে বিক্ষোভ স্তিমিত হয়ে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভেটেরান্স অ্যান্ড মার্টার্স ফাউন্ডেশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ইসলামী আইনে ‘শহীদ’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। 

এই ‘শহীদদের’ মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। বাকি ৬৯০ জনকে ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী আকবর পুরজামশিদিয়ান বলেন, এই সংখ্যা নিরাপত্তা বাহিনীর ‘সংযম ও সহনশীলতা’র প্রমাণ।

তবে নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর)-এর পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন, ইরান থেকে পাওয়া সব প্রমাণে দেখা যাচ্ছে যে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। 

তিনি বলেন, অতীতেও রাষ্ট্রীয় সহিংসতা কম দেখানোর নজির রয়েছে এবং সে অনুযায়ী এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ২৫ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলি চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করেছে। 

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ছাদ থেকে গুলি চালানো ও চোখ লক্ষ্য করে গুলি করার ঘটনাও ঘটেছে। নরওয়ে-ভিত্তিক আরেক সংগঠন হেঙ্গাও জানায়, তারা আরও আট নারী নিহতের ঘটনা নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনায় মোট নিহত নারীর সংখ্যা ৪২।

এদিকে, দীর্ঘ সময়ের ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সঠিক তথ্য সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস। 

এদিকে, ইরান সরকার বরাবরের মতোই সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে।

বিক্ষোভের ক্ষয়ক্ষতি দেখাতে তেহরান সিটি করপোরেশন সাংবাদিকদের একটি বাস ডিপো পরিদর্শনে নিয়ে যায়, যেখানে পুড়ে যাওয়া এক ডজনের মতো বাস দেখানো হয়।

প্যারিসে অবস্থানরত সাবেক সম্রাজ্ঞী ফারাহ পাহলভি এএফপিকে বলেন, এই আন্দোলনের পর ‘ফিরে যাওয়ার কোনো পথ নেই’।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দমন-পীড়ন নিয়ে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করেননি। 

জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আবোলফাজল শেকারচি সতর্ক করে বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ক্ষমতাচূত করার পরিকল্পনা করা হলে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।