শিরোনাম

ঢাকা, ২২ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সুইস আল্পস শহর ডাভোসে তার নতুন উদ্যোগ ‘বোর্ড অব পিস’ আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরবেন। একই দিনে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে নিজের আগের হুমকি থেকে সরে আসার একদিন পর এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেকে শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন ট্রাম্প।
ডাভোস থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
বুধবার ট্রাম্প আকস্মিকভাবে ঘোষণা দেন, ইউরোপের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা বাতিল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করেন তিনি। এতে বৈশ্বিক অভিজাতদের এই সম্মেলনকে নাড়িয়ে দেওয়া একটি সংকট আংশিকভাবে প্রশমিত হয়।
সুইস স্কি রিসোর্টে অবস্থানের দ্বিতীয় দিনে ট্রাম্প তার বিতর্কিত উদ্যোগ ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রচারে জোর দেবেন। আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে গঠিত এই সংস্থার সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।
নবগঠিত এই বোর্ডে স্থায়ী সদস্য হতে এক বিলিয়ন ডলার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রাম্প ইতোমধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানসহ একাধিক নেতাকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
বুধবার মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটাই এখন পর্যন্ত গঠিত সেরা বোর্ড।’ সিসিও এই বোর্ডে যোগ দিতে সম্মত হওয়া নেতাদের একজন।
হামাস ও ইসরাইলের যুদ্ধের পর গাজা পুনর্গঠন তদারকির উদ্দেশ্যে বোর্ডটির ভাবনা শুরু হলেও এর সনদে কার্যক্রম শুধু গাজায় সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়নি। এতে করে জাতিসংঘের প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো কাঠামো গড়ে তুলতে চান ট্রাম্প—এমন আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
ফ্রান্স ও ব্রিটেনসহ যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ এই উদ্যোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ, বিশেষ করে ট্রাম্পঘনিষ্ঠ সৌদি আরব ও কাতার এতে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বুধবার সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ৫০টি আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ জন বিশ্বনেতা অংশগ্রহণে সম্মতি দিয়েছেন।
বুধবার ট্রাম্প আরও বলেন, পুতিনও এই বোর্ডে যোগ দিতে সম্মত হয়েছেন। যদিও ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা আমন্ত্রণটি এখনো পর্যালোচনা করছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ইউক্রেনের মধ্যে, যারা মস্কোর প্রায় চার বছর ধরে চলা আগ্রাসনের অবসান চায়।
ট্রাম্প জানান, ‘বোর্ড অব পিস’-এর বৈঠকের পর তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা করবেন। ইউক্রেন যুদ্ধে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে কঠিন আলোচনা তখনও চলছিল।
বুধবার ডাভোসে ট্রাম্প বলেন, এই সংঘাতে শান্তি চুক্তিতে না পৌঁছালে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই ‘বোকামি’ করবে। তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মধ্যে তিনি এই সংকট একদিনেই সমাধান করতে পারতেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, পুতিন ও জেলেনস্কি একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি। যদিও যুদ্ধবিরতি না হওয়ায় কখনো এক পক্ষকে, কখনো অন্য পক্ষকে দায়ী করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, তারা এখন এমন একটি পর্যায়ে আছে, যেখানে একত্র হয়ে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে। যদি তারা তা না করে, তাহলে তারা দু’পক্ষই নির্বোধ।’
ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নিয়ে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই সন্দিহান। তিনি বলেন, এখন কিয়েভকে সহায়তার দায়িত্ব ন্যাটো ও ইউরোপের। তবে পুতিনের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে—এমন বিশ্বাস যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারেনি।
ট্রাম্পের বিশেষ দূত ও ব্যবসায়ী স্টিভ উইটকফ বৃহস্পতিবার ডাভোস থেকে মস্কো সফরে যাবেন। তার সঙ্গে থাকবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তারা পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
এদিকে, জেলেনস্কি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগ রাশিয়ার দখলদারিত্ব্ থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে পারে।
তবে বুধবার গভীর রাতে ট্রাম্প বলেন, ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি ‘ভবিষ্যৎ চুক্তির একটি কাঠামোতে’ পৌঁছেছেন। এর ফলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর আরোপের কথা থাকা শুল্ক তিনি প্রত্যাহার করবেন।
রুটে এএফপিকে বলেন, ডাভোসে বৈঠকটি খুবই ভালে উদ্যোগ, তবে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, খনিজসম্পদসমৃদ্ধ এই আর্কটিক দ্বীপ রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।