শিরোনাম

ঢাকা, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার মিত্র ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলে শক্তি প্রয়োগের হুমকি থেকে সরে এসে একটি অস্পষ্ট ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ চুক্তি ঘোষণা করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তিটির লক্ষ্য হলো আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ডাভোস থেকে এএফপি জানায়, ডেনমার্ককে নিয়ে দেওয়া হুমকির বিরোধিতা করা ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিশ্রুতিও তিনি প্রত্যাহার করেছেন। ট্রাম্প এটিকে বিজয় হিসেবে তুলে ধরে বলেন, এই চুক্তিতে ওয়াশিংটন ‘আমাদের যা যা চেয়েছিলাম, সবই পেয়েছে’।
ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সমঝোতা হয়েছে এবং এটি ‘চিরস্থায়ী’ হবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘নিরাপত্তা, খনিজসহ সবকিছু বিবেচনায় এটি সবাইকে খুব ভালো অবস্থানে রাখে।’ গ্রিনল্যান্ড দখলে শক্তি প্রয়োগের হুমকি প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি এ মন্তব্য করেন।
তবে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার বিষয়ে ট্রাম্প তাঁর আগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সফল হয়েছেন—এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে কি না- এ প্রশ্নে রুটে বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি ‘আলোচনাতেই আসেনি’।
ফক্স নিউজের ‘স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বেয়ার’ অনুষ্ঠানে রুটে নতুন ব্যবস্থায় গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান সম্পর্কে খুব বেশি বিস্তারিত দেননি। তিনি শুধু বলেন, রাশিয়া বা চীনের মতো প্রতিপক্ষের হাত থেকে আর্কটিক অঞ্চল সুরক্ষায় ন্যাটো কাজ চালিয়ে যাবে।
ন্যাটোর প্রধান এএফপিকে বলেন, ‘এখনও অনেক কাজ বাকি।’
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ডেনমার্কসহ গ্রিনল্যান্ডে সংহতি জানিয়ে সেনা পাঠানো যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির মতো ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি তিনি প্রত্যাহার করছেন।
ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট বলেন, ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র ‘রাশিয়া ও চীন যেন কখনোই অর্থনৈতিক বা সামরিকভাবে গ্রিনল্যান্ডে অবস্থান গড়তে না পারে’ এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে আলোচনা করবে। এটি ট্রাম্পের ঘোষিত প্রধান উদ্বেগগুলোর একটি।
বিরোধ ও শুল্ক হুমকিতে অস্থির হয়ে পড়া বৈশ্বিক বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা যায়; ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী হয়।
ট্রাম্পের হুমকি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ট্রান্সআটলান্টিক সংকটের জন্ম দিয়েছিল। এমনকি সতর্কবার্তাও ছিল যে একটি সদস্য দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের মাধ্যমে তিনি একাই ন্যাটো ধ্বংস করে দিতে পারেন।
এই অবস্থান পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র ডেনমার্কে সতর্ক স্বস্তি ফিরেছে। সেখানে ট্রাম্পের আগ্রাসী ভাষা বিস্ময় ও বিশ্বাসভঙ্গের অনুভূতি তৈরি করেছিল।
ডেনিশ পররাষ্ট্রন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ডিআরকে বলেন, ‘ট্রাম্প বলেছেন তিনি বাণিজ্যযুদ্ধ স্থগিত করবেন, তিনি বলেছেন, ‘আমি গ্রিনল্যান্ডে হামলা করব না’। এগুলো ইতিবাচক বার্তা।’
গত সপ্তাহে রাসমুসেন ওয়াশিংটনে গিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে পরে তিনি জানান, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
ডেনিশ পার্লামেন্টে গ্রিনল্যান্ডের দুই প্রতিনিধির একজন আজা চেনমিৎস প্রশ্ন তুলেছেন, দ্বীপটির খনিজ সম্পদের বিষয়ে ন্যাটোর কথা বলার অধিকার কেন থাকবে।
তিনি লেখেন, ‘কোনো অবস্থাতেই ন্যাটোর আমাদের—গ্রিনল্যান্ডের—অনুপস্থিতিতে কিছু নিয়ে আলোচনা করার অধিকার নেই। আমাদের বিষয়ে আমাদের ছাড়া কিছু নয়।’
নুক শহরে কর্তৃপক্ষ সংকট মোকাবিলার নির্দেশিকা বিতরণ শুরু করলে ৬৫ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত লিস স্টিনহোল্ট বলেন, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক শুরু থেকেই স্পষ্ট: দ্বীপটি বিক্রি করা হবে না।
তিনি বলেন, ‘ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখতেই হবে। এই মুহূর্তে সেটাই আমাদের একমাত্র উপায়।’
ন্যাটোর প্রধান শক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়া বা চীনের বিরুদ্ধে গ্রিনল্যান্ড রক্ষা করতে হবে- এই যুক্তিতে ট্রাম্প বারবার বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্য। যদিও দ্বীপটির ওপর রাশিয়া বা চীনের কোনো দাবি নেই।
ছয় বছর পর প্রথমবার ডাভোসে বক্তব্য দিয়ে ট্রাম্প ডেনমার্ককে ‘অকৃতজ্ঞ’ বললেও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি কার্যত প্রত্যাহার করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি শক্তি প্রয়োগ করতে চাই না। আমি শক্তি প্রয়োগ করব না। যুক্তরাষ্ট্র যা চাইছে, তা শুধু গ্রিনল্যান্ড নামে একটি জায়গা।’
৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প তার বক্তব্যে একাধিকবার গ্রিনল্যান্ডকে ভুল করে আইসল্যান্ড বলে উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার ডাভোসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ‘ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈশ্বিক ব্যবস্থায় ভাঙন’ নিয়ে সতর্ক করলে তিনি দাঁড়িয়ে অভিবাদন পান।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেন, ইউরোপকে কেউ ভয় দেখাতে পারবে না।
ট্রাম্প উভয় নেতাকেই আক্রমণ করে ডাভোসে সানগ্লাস পরার জন্য মাখোঁকে উপহাস করেন, যার জবাবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানান, এটি চোখের একটি সমস্যার কারণে।