শিরোনাম

ঢাকা, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : গ্রিসজুড়ে তীব্র ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে বুধবার দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রবল বাতাসে বিভিন্ন এলাকায় নৌ চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
বৃষ্টির পানিতে সড়ক ডুবে যায়।
এথেন্স থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
নৌবিষয়ক মন্ত্রী ভাসিলিস কিকিলিয়াস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, পূর্ব পেলোপোনিজের উপকূলীয় শহর অ্যাস্ট্রোসে দায়িত্ব পালনের সময় একজন কোস্টগার্ড সদস্য মারা গেছেন।
খবরে বলা হয়, স্থানীয় জেলেদের এলাকা ছাড়তে অনুরোধ করার সময় একটি ঢেউয়ের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান।
কয়েক ঘণ্টা পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইআরটি জানায়, এথেন্সের উপশহর গ্লিফাদায় বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া একটি গাড়ির ধাক্কায় এক নারী নিহত হয়েছেন।
গ্রিসের ওপর দিয়ে পূর্বমুখী ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি ছাড়িয়ে যায়। এথেন্সসহ পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
আবহাওয়াবিদরা জানান, রাজধানীর কিছু অংশসহ কয়েকটি এলাকায় মাত্র একদিনেই ছয় সপ্তাহের সমপরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে।
বাইরে কাজকর্ম নিরুৎসাহিত করা হয়। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে জনগণকে সতর্ক করে কর্তৃপক্ষ।
ঝড়ের কারণে প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নেওয়ার নির্ধারিত সফরও স্থগিত করেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রিসে ভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট প্রাণঘাতী বন্যার কারণে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়নে কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গ্রিসের মধ্যাঞ্চলে কৃষিপ্রধান থেসালি অঞ্চল ভয়াবহ ঝড় ও বন্যায় বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয় এবং লাখ লাখ গবাদিপশু মারা যায়।
এর আগে ২০১৭ সালের নভেম্বরে এথেন্সের কাছের আধা-গ্রামীণ এলাকা মান্দ্রায় ভারী বৃষ্টিতে ২৫ জনের মৃত্যু ও বিপূলসংখ্যক মানুষ আহত হন।
বিশেষজ্ঞরা বারবার অবকাঠামো উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে বৃহত্তর এথেন্স এলাকায়, যেখানে চারপাশে পাহাড় এবং অসংখ্য জলপথ রয়েছে। সাম্প্রতিক দশকে দ্রুত নগরায়ণের কারণে এসব জলপথের অধিকাংশই ঢেকে গেছে।