শিরোনাম

ঢাকা, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : এক দশকেরও বেশি আগে হংকংয়ে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ ফেরি দুর্ঘটনাকে ‘অবৈধ হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। বহু প্রতীক্ষিত এই রায় বুধবার দেওয়া হয়।
হংকং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
২০১২ সালের ১ অক্টোবর আরেকটি জলযানের সঙ্গে সংঘর্ষে লামা ফোর নামের ফেরিটি ডুবে যায়।
এই দুর্ঘটনায় ৩১ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও আট শিশুসহ মোট ৩৯ জন প্রাণ হারান।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ১৯৭১ সালের পর হংকংয়ে সবচেয়ে ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।
পরবর্তীতে একজন বিচারকের নেতৃত্ব গঠিত একটি কমিশন লামা ফোর সংক্রান্ত একের পর এক ত্রুটির কথা তুলে ধরে।
এই ত্রুটিগুলোর মধ্যে একটি বাল্কহেড দরজা অনুপস্থিত থাকাও ছিল। এই ত্রুটির কারণেই ফেরিটি মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই ডুবে যায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধিদের করা মামলার পর, গত বছর সন্দেহজনক মৃত্যু তদন্ত সংস্থা করোনারের আদালতে তদন্ত শুরু হয়।
করোনার মনিকা চৌ বুধবার বলেন, উভয় জাহাজের কক্সওয়েনদের চরম অবহেলার কারণেই এই সংঘর্ষ ঘটে।
করোনার হলেন আকস্মিক, সহিংস বা অপ্রকাশিত মৃত্যুর তদন্তকারি সরকারি কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, ৩৯ জনের প্রত্যেকের মৃত্যুই অবৈধ হত্যাকাণ্ড।
এই দুর্ঘটনার ফৌজদারি মামলায় ২০১৫ সালে দুই কক্সওয়েনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তারা বহু আগেই সেই সাজা শেষ করেছেন।
হংকংয়ে করোনারেরা মৃত্যুর কারণ ও পরিস্থিতি তদন্ত করেন। তবে দোষীদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই।
তদন্তে ৪০ দিনের বেশি সময় লাগে। এতে ৮৪ জন সাক্ষ্য দেন। লামা ফোরের নকশা, নির্মাণ ও অনুমোদনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও সাক্ষ্য দেন।
এর আগে দুর্ঘটনায় ভাই ও ভাতিজিকে হারানো রায়ান সুই জানিয়েছিলেন, তিনি অবিশ্বাসের সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন।
সেই সময়ে তার অভিযোগ ছিল, অনেক সাক্ষীই দায় এড়িয়ে গেছেন।
তিনি গত বছর এএফপিকে বলেন, ‘যে ভুলগুলো করা সম্ভব ছিল, সবই করা হয়েছে, আর এতে প্রত্যেক পক্ষই ছিল আত্মতুষ্ট।’
বুধবার মনিকা চৌ বলেন, সময়ের ব্যবধানে অনেক সাক্ষীর স্মৃতি ঝাপসা হয়ে গেছে আর এর ফলে বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে।
দুর্ঘটনায় বোনকে হারানো ফিলিপ চিউও রায় ঘোষণার সময় অন্যান্যদের সঙ্গে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
কক্সওয়েনদের কারাদণ্ডের পাশাপাশি, আগে দুটি সরকারি জাহাজ পরিদর্শককেও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তারা লাইফজ্যাকেট সংক্রান্ত নিয়ম মানা হচ্ছে কি-না, তা নিশ্চিত করতে পারেননি।
সরকারি এক তদন্তে নৌপরিবহন বিভাগের ১৭ কর্মকর্তার অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তবে গোপনীয়তার কারণে তাদের নাম ও পূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
নৌপরিবহন বিভাগ গত বছর এএফপিকে জানায়, তারা সামুদ্রিক নিরাপত্তা আইন সংশোধন করেছে। পাশাপাশি জাহাজ নির্মাণ ও সংস্কার কঠোরভাবে পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।
২০১২ সালের পর হংকংয়ে নৌদুর্ঘটনায় বার্ষিক গড় মৃত্যুর হার ৭ দশমিক ৬ থেকে হ্রাস পেয়ে ৩ দশমিক ৩ এ নেমেছে।
তবে প্রতি বছর দুর্ঘটনার গড় সংখ্যা মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে।