শিরোনাম

ঢাকা, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) এক গভর্নরকে বরখাস্ত করার উদ্যোগ নিয়ে বুধবার শুনানি করবে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতার ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি এখবর জানায়।
গত আগস্টে ট্রাম্প ফেড গভর্নর লিসা কুককে অপসারণের চেষ্টা করেন। সুদহার নির্ধারণকারী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ এই সদস্যের বিরুদ্ধে তিনি গৃহঋণ জালিয়াতির অভিযোগ আনেন। তবে কুক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রক্ষণশীল-প্রভাবিত সুপ্রিম কোর্ট কুককে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করতে ট্রাম্পকে বাধা দেয় এবং মামলার শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে পদে বহাল রাখার অনুমতি দেয়।
মামলাটির গুরুত্ব ও কুকের প্রতি জনসমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবে ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল নিজে বুধবারের শুনানিতে উপস্থিত থাকার পরিকল্পনা করেছেন বলে এএফপিকে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র।
পাওয়েলের উপস্থিতির এই প্রত্যাশা এমন এক সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর চাপ বাড়িয়েছে—এর মধ্যে ফেড প্রধানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরুও রয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে পাওয়েল জানান, ফেডের সদরদপ্তরের চলমান সংস্কারকাজ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কৌঁসুলিরা তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছেন।
পাওয়েল এ তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন, এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে নেওয়া একটি প্রচেষ্টা। বিশ্বের বড় বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানরাও তার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন।
ফেড বোর্ড অব গভর্নর্সে দায়িত্ব পালন করা প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী কুককে বরখাস্ত করার চেষ্টা এবং পাওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্ত ফেডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের প্রচেষ্টার নাটকীয় মাত্রা বাড়িয়েছে।
ট্রাম্প এর আগে বারবার সুদহার আরও আক্রমণাত্মকভাবে কমাতে তার দাবিতে সাড়া না দেওয়ায় ফেডের সমালোচনা করেছেন।
কুককে সরাতে পারলে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ফেড বোর্ডে নিজের পছন্দের দিকে সুদহার ঘোরাতে আরেকটি কণ্ঠ যোগ করতে পারবেন।
এ মামলার রায় ফেডকে রাজনৈতিক চাপ থেকে সুরক্ষিত রাখতে বিদ্যমান আইনি সুরক্ষা টিকে থাকবে কি না, নাকি প্রেসিডেন্ট ফেড নেতৃত্বের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করতে পারবেন তা-ও নির্ধারণ করতে পারে।
সাবেক ফেড প্রধানরা সম্প্রতি সতর্ক করেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হলে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতির কার্যকারিতার ওপর ‘অত্যন্ত নেতিবাচক পরিণতি’ ডেকে আনতে পারে।
ট্রাম্প দায়িত্বে ফেরার পর থেকে সুপ্রিম কোর্ট অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার পক্ষে রায় দিয়েছে। এর মধ্যে ফেডারেল কর্মীদের গণছাঁটাই, কংগ্রেস অনুমোদিত তহবিল আটকে রাখা এবং ব্যাপক অভিবাসন অভিযানে জাতিগত প্রোফাইলিংয়ের অনুমতিও রয়েছে।
সম্প্রতি আদালত অন্যান্য স্বাধীন সরকারি বোর্ডের সদস্যদের বরখাস্তে ট্রাম্পকে অনুমতি দিলেও ফেডের ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রম রেখেছে।
ফেডারেল আইনে বলা আছে, ফেড কর্মকর্তাদের কেবল ‘কারণ দেখিয়ে’ অপসারণ করা যায়; যার অর্থ হতে পারে দায়িত্বে গাফিলতি বা অসদাচরণ।
কুক আগে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আইনে নির্ধারিত কোনো কারণ না থাকলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাকে ‘কারণ দেখিয়ে’ বরখাস্ত করার দাবি করেছেন, অথচ তার সে ক্ষমতা নেই।’
কুককে অপসারণের ঘোষণায় ট্রাম্প ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির পরিচালকের একটি ফৌজদারি রেফারেলের কথা উল্লেখ করেন, যিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।
ট্রাম্প বলেন, ওই রেফারেল থেকে ধারণা করা যায়, কুক এক বা একাধিক গৃহঋণ চুক্তিতে ‘ভুল তথ্য’ দিয়েছেন—অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মিশিগান ও জর্জিয়ায় দুটি প্রাথমিক বাসভবনের দাবি করেছিলেন।
তবে কুকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি এবং কথিত ভুল তথ্য তার বর্তমান দায়িত্বে যোগদানের আগের সময়কার।
কুক ২০২২ সালে ফেড গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ২০২৩ সালে বোর্ডে পুনর্নিয়োগ পান।