শিরোনাম

ঢাকা, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ভিয়েতনামের শীর্ষ নেতা তো লাম দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। মঙ্গলবার কমিউনিস্ট পার্টির দুই দশকে একবার অনুষ্ঠিত কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে তিনি চীনের মতো রাজনৈতিক কাঠামোয় ক্ষমতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য সামনে রাখেন। হ্যানয় থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
মাত্র ১৭ মাসে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তো লাম প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে কর্তৃত্ব কেন্দ্রীভূত করেছেন। সরকারি কর্মকর্তারা একে ‘বিপ্লব’ আখ্যা দিচ্ছেন। তিনি একটি ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ত্বরান্বিত করেছেন যা হাজার হাজার কর্মকর্তাকে ফাঁদে ফেলেছে, আমলাতন্ত্রকে হালকা ও সুবিন্যস্ত করেছে এবং অবকাঠামোগত বিনিয়োগকে উৎসাহিত করেছে।
এই আগ্রাসী সংস্কার অভিযানে তিনি দুর্নীতিবিরোধী অভিযান জোরদার করেন। এতে হাজারো কর্মকর্তা জড়ান।
তিনি বলেন, বেসরকারি খাত অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সে কারণেই দল দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সভায় তিনি জানান, প্রশাসনিক সংস্কার অব্যাহত থাকবে। অপচয় ও নেতিবাচকতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, সব ধরনের অনিয়মের বিচার নিশ্চিত করা হবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০ কোটি মানুষের এই দেশ একদিকে দমনমূলক একদলীয় রাষ্ট্র। অন্যদিকে এটি আঞ্চলিক অর্থনীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বৈধতা জোরদারে কমিউনিস্ট পার্টি দ্রুত প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
এ সপ্তাহে প্রায় ১ হাজার ৬০০ প্রতিনিধি বন্ধ দরজার বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরের নেতৃত্ব তালিকা চূড়ান্ত করবেন। গুরুত্বপূর্ণ নীতিও নির্ধারিত হবে।
সূত্র জানায়, তো লামই দলের শীর্ষ নেতা থাকছেন। তবে তিনি প্রেসিডেন্ট পদও চাইছেন। এতে প্রতিবেশী চীনের সি চিনপিংয়ের মতো দ্বৈত ভূমিকা তৈরি হবে।
সি চিনপিংও ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়েছিলেন। তিনি ‘বাঘ ও মাছি’— উভয়কে টার্গেট করার কথা বলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহৃত হয়েছে। এতে দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বীরাও সরেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তো লাম যদি দুই পদই পান, তবে নিরাপত্তানির্ভর তাঁর গোষ্ঠীর প্রাধান্য স্পষ্ট হবে। সিঙ্গাপুরের আইএসইএএস-ইউসুফ ইশাক ইনস্টিটিউটের নুয়েন খাক জিয়াং বলেন, এতে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর থেকে নেতৃত্ব সবচেয়ে শক্ত ম্যান্ডেট পাবে।
তবে তাঁর প্রভাব নির্ভর করবে আর কারা শীর্ষ পদ ও পলিটব্যুরোতে আসেন তার ওপর। বিশেষ করে তাঁর বিরোধী রক্ষণশীল সামরিক গোষ্ঠীর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।
দলীয় আলোচনার সঙ্গে যুক্ত এক সূত্র এএফপিকে জানান, ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। তবে কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, সংস্কার কর্মসূচির সমর্থন পেতে তাঁকে প্রেসিডেন্টের আকাঙ্ক্ষা থেকে সাময়িকভাবে সরে থাকতে হয়েছে।
২০২৪ সালে সাধারণ সম্পাদক নুয়েন ফু ত্রংয়ের মৃত্যুর পর দলের প্রধান হন তো লাম। দ্রুত পরিবর্তনের গতি দেশকে বিস্মিত করেছে।
তিনি সরকারের বিভিন্ন স্তর বিলুপ্ত করেছেন। আটটি মন্ত্রণালয় বা সংস্থা তুলে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কর্মীবাহিনী থেকে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার পদ কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চাভিলাষী রেল ও বিদ্যুৎ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী পাঁচ বছরে তিনি বেসরকারি খাত, ডিজিটাল ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রবৃদ্ধিতে জোর দেবেন। উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে ভিয়েতনাম দশকের শেষে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে যেতে চায়।
শাসক দল ভিন্নমত খুব কমই সহ্য করে। সমালোচকদের নিয়মিত কারাবন্দি করা হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসেবে, ১৬০ জনের বেশি সমালোচক কারাগারে আছেন।
তবে বর্তমান চীন বা উত্তর কোরিয়ার মতো ভিয়েতনামে একক নেতার হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত নয়। এখানে সমষ্টিগত শাসনব্যবস্থা রয়েছে। এর চার স্তম্ভ— দলের প্রধান, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পরিষদের চেয়ারম্যান। গত বছর কমিউনিস্ট পার্টির একটি অভ্যন্তরীণ পদ যুক্ত হয়ে পঞ্চম স্তম্ভ হয়।
তো লাম প্রেসিডেন্ট হলে কংগ্রেসের মাধ্যমে একই সঙ্গে শীর্ষ দুই পদে নিয়োগ পাওয়া প্রথম ব্যক্তি হবেন। এর আগে এ ধরনের পদোন্নতি হয়েছে কেবল দায়িত্বপ্রাপ্তের মৃত্যুর পর।
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল ক্রিটেনব্রিংক এএফপিকে বলেন, দল তো লামের প্রভাবশালী ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করবে। পাশাপাশি, গত এক বছরে তিনি যে নীতি ও লক্ষ্য তুলে ধরেছেন, তা খুবই উল্লেখযোগ্য।