বাসস
  ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৫

স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৪০, তিন দিনের শোক ঘোষণা

ঢাকা, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলের আদামুজে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে। দেশজুড়ে মঙ্গলবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

আদামুজ থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

রোববার রাতে মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী ‘ইরিও’ কোম্পানির একটি হাইস্পিড ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে। এতে উভয় ট্রেনই লাইনচ্যুত হয়। এটি ২০১৩ সালের পর স্পেনের সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা। ওই বছর সান্তিয়াগো দে কমপোস্তেলার কাছে এক দুর্ঘটনায় ৮০ জন নিহত হয়।

সোমবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ পুরো স্পেনের জন্য এক শোকের দিন। আমরা এই দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করব এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরব।’

আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক সরকারপ্রধান হুয়ান ম্যানুয়েল মোরেনো জানান, নিহতের সংখ্যা ৩৯ থেকে বেড়ে ৪০ হয়েছে। তবে উদ্ধার কাজ চলায় প্রকৃত মৃত্যু সংখ্যা নিশ্চিত হতে আরও ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

দুর্ঘটনাস্থলে ভারী যন্ত্রপাতি এনে ক্ষতিগ্রস্ত বগি সরানোর কাজ চলছে। এতে উদ্ধারকর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালাতে পারছেন। আহত হয়েছেন ১২০ জনের বেশি। এর মধ্যে ৪১ জন কর্দোবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিখোঁজ যাত্রীদের খুঁজে পেতে স্বজনরা সামাজিক মাধ্যমে ছবি পোস্ট করছেন।

গার্দিয়া সিভিল পুলিশের আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ট্রেন দূরে ছিটকে পড়েছে। উদ্ধারকর্মীরা চারপাশে কাজ করছেন। 

কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনাটি বাঁক নয়, সোজা লাইনে ঘটেছে এবং ট্রেন দু’টি নির্ধারিত গতি সীমার মধ্যেই ছিল।

স্পেনের পরিবহন মন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তের মতে, লাইনচ্যুত হওয়া প্রথম ট্রেনটি ছিল প্রায় নতুন। এছাড়া যে অংশে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেই ট্র্যাকটিও সম্প্রতি সংস্কার করা হয়েছিল। ফলে, এই দুর্ঘটনাকে তিনি ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ বলে বর্ণনা করেছেন।

ট্রেন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইরিয়ো’ জানায়, তাদের ট্রেনটি ২০২২ সালে তৈরি এবং দুর্ঘটনার মাত্র তিন দিন আগেও তা পরীক্ষা করা হয়েছিল। অজানা কারণে এটি পাশের লাইনে চলে যায়। ট্রেনটিতে প্রায় ৩০০ যাত্রী ছিলেন। 

অন্যদিকে, হুয়েলভাগামী রেনফে কোম্পানির দ্বিতীয় ট্রেনটিতে যাত্রী ছিলেন ১৮৪ জন।

রেনফে’র প্রেসিডেন্ট আলভারো ফার্নান্দেজ হেরেদিয়া জানান, মানুষের ভুল (হিউম্যান এরোর) বা অতিরিক্ত গতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেনি। ট্রেন দুটি ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটারের সামান্য বেশি গতিতে চলছিল, যা ওই লাইনের সর্বোচ্চসীমা ২৫০ কিলোমিটারের নিচে। তাই ট্রেনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা লাইনের সমস্যার দিকেই ইঙ্গিত করছেন তিনি।

ইউরোপের সবচেয়ে বড় হাইস্পিড রেল নেটওয়ার্ক রয়েছে স্পেনে। ৩ হাজার কিলোমিটারের বেশি লাইন মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, সেভিয়া, ভ্যালেন্সিয়া ও মালাগাকে যুক্ত করেছে।

দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া লুকাস মেরিয়াকো স্থানীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘এটি যেন এক ভয়াবহ সিনেমা। আমরা পেছন থেকে প্রচণ্ড ধাক্কা অনুভব করি। মনে হচ্ছিল পুরো ট্রেন ভেঙে পড়বে। কাঁচ ভাঙায় অনেকেই আহত হয়েছেন।’

আদামুজে খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়রা টাউন হলে পানি, কম্বলসহ নানা সরঞ্জাম নিয়ে ছুটে যান। 

স্থানীয় এক তেল কারখানার শ্রমিক মানুয়েল মুনিয়োজ বলেন, ‘আমরা যা পারি তাই নিয়ে এসেছি।’

পোপ লিও চতুর্দশ ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানান।