বাসস
  ১৫ মার্চ ২০২৬, ১৩:৩৮

কঙ্গো-ব্রাজাভিল নির্বাচন: ৪০ বছরের শাসন আরও দীর্ঘায়িত করতে চলেছেন প্রেসিডেন্ট সাসু এনগুয়েসো

ঢাকা, ১৫ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): কঙ্গো-ব্রাজাভিলে রোববার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশটির ৮২ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট ডেনিস সাসু নএনগুয়েসো’র চার দশকের শাসন আরও পাঁচ বছরের জন্য দীর্ঘায়িত হওয়ার দিকে এগোচ্ছে।

সাসু এন্গুয়েসোর বিরুদ্ধে ছয় জন প্রার্থী দাঁড়িয়ে আছেন। তবে প্রধান বিরোধীদল বিভক্ত ও কার্যত অনুপস্থিত থাকায় তিনি সহজেই বিজয়ী হওয়ার পথে বলেই ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। 

ব্রাজাভিল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

সাবেক প্যারাট্রুপার কর্নেল সাসু ন্গুয়েসো ইতোমধ্যেই আফ্রিকার দীর্ঘমেয়াদি নেতা হিসেবে পরিচিত। 

এ তালিকায় আরও রয়েছেন— ইকুয়েটোরিয়াল গিনিয়ার তেওদোরো ওবিয়াং ন্গুয়েমা এম্বাসোগো ও ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়া।

নিরীক্ষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচনে ভোটর উপস্থিতি রেকর্ড কম হতে পারে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রেসিডেন্ট সাসু এনগুয়েসো দেশটি ঘুরে ভোট দাতাদের ভোটকক্ষে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। 

নির্বাচনী  প্রচারণা শুক্রবার শেষ হয়েছে।

সুরক্ষার বিষয়টি তার শেষ নির্বাচনী সভায় ব্রাজাভিলে হাজার হাজার উৎসাহী সমর্থকের সামনে উত্থাপন করা হয়। 

যদিও তিনি দেশের কিছুটা স্থিতিশীলতা এনেছেন, মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিরোধীদলীয় কর্মীদের ওপর হয়রানির অভিযোগ নিয়মিত তুলে ধরছে।

২০১৬ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিরোধী নেতা জেন-মারি মিশেল মোকোকো ও আন্দ্রে ওকম্বি স্যালিসা দুই জনই ‘আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার হুমকি’ হিসেবে ২০ বছরের কারাগারের সাজা ভোগ করছেন।

প্রেসিডেন্ট তার নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থনৈতিক অর্জনের কথাও তুলে ধরেছেন। দেশটির অবকাঠামো আধুনিকায়ন, গ্যাস ও কৃষিক্ষেত্র উন্নয়নের মাধ্যমে কঙ্গোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তেলের রফতানির আয়ের তিন-চতুর্থাংশই দেশীয় রাজস্ব দেয়। তেলের আয়ের কারণে ২০২৫ সালে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ২ দশমিক ৯ শতাংশ ধরা হয়েছে। তবুও দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে জীবনযাপন করছে।

সরকারের সমালোচকরা বলছেন, দেশের বৃদ্ধি মূলত সিনিয়র কর্মকর্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল তেল রাজস্ব সঞ্চয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

সরকারের বিরুদ্ধে ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যেই একাধিক মামলা হয়েছে ও তদন্ত চলছে।

যদিও সাসু এনগুয়েসোর পুনর্নির্বাচন প্রায় নিশ্চিত, সংবিধান অনুযায়ী ২০৩১ সালে তিনি আর নির্বাচন করতে পারবেন না। 

তবে তিনি এফপিকে বলেছেন, ‘আমি চিরকাল ক্ষমতায় থাকব না। তরুণ প্রজন্মেরও সুযোগ আসবে।’ 

তবে তিনি কোনও নির্দিষ্ট উত্তরাধিকারীর নাম প্রকাশ করেননি।

সাসো এনগুয়েসো প্রথমবারের মতো ১৯৭৯ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত একদলীয় ব্যবস্থার অধীনে কঙ্গো-ব্রাজাভিলের নেতৃত্ব দেন এবং প্রথম বহুদলীয় নির্বাচনে হেরে যান। ওই নির্বাচনী বিজয়ী ১৯৯৭ সালে গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন।

সাব-সাহারান আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ, কঙ্গো-ব্রাজাভিল হাইড্রোকার্বনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যা রফতানি আয়ের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি।

ভোট কেন্দ্রগুলো স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় খোলা হবে এবং সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ হবে।