বাসস
  ১৫ মার্চ ২০২৬, ১৩:২৫

উপসাগরীয় তেলপথে রণতরী পাঠানো নিয়ে জাপানের সতর্কতা

ঢাকা, ১৫ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : মধ্যপ্রাচ্যের তেলবাহী জাহাজ চলাচলের পথ রক্ষায় রণতরী পাঠানোর বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে জাপান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের কয়েক ঘণ্টা পরই রোববার জাপানের একজন নীতিনির্ধারণী উপদেষ্টা জানান, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া ‘অত্যন্ত কঠিন’।

টোকিও থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার দুই সপ্তাহ পার হলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমেনি। ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় এবং জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানোয় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার জাপানসহ মিত্র দেশগুলোকে এই সংকটে সহায়তার আহ্বান জানান। এর আগে তিনি ঘোষণা দেন, মার্কিন নৌবাহিনী ‘খুব শিগগিরই’ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা (এসকর্ট) দিতে শুরু করবে।

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপান তাদের প্রয়োজনীয় তেলের ৯৫ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ তেল আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে, যা বর্তমানে কার্যত বন্ধ রয়েছে।

রোববার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে’র এক রাজনৈতিক বিতর্ক অনুষ্ঠানে জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নীতিনির্ধারণ প্রধান তাকাউকি কোবায়াশি বলেন, ‘বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ওই অঞ্চলে জাপানি রণতরী পাঠানোর বিষয়টি অত্যন্ত জটিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইনগতভাবে আমরা সম্ভাবনাটি একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছি না। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ভাবা প্রয়োজন।’

শান্তিবাদী দেশ হিসেবে পরিচিত জাপানে বিদেশে সৈন্য পাঠানো রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। দেশটির ১৯৪৭ সালের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ এড়ানোর নীতিকে সাধারণ ভোটাররা জোরালো সমর্থন করেন।

গত সপ্তাহে জাপানি পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে তেলবাহী জাহাজ রক্ষায় রণতরী পাঠানোর বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

চলতি সপ্তাহে তাকাইচি ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সেখানে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

কোবায়াশি বলেন, ট্রাম্প কেন অতিরিক্ত সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করবেন। 

এছাড়া জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সেনা পাঠানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যাতে কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে দুই নেতা আলোচনা করবেন বলেও জানান কোবায়াশি।